নিজস্ব প্রতিনিধি, নিতুড়িয়া:
পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার খনি অঞ্চলে শহীদ দিবসের কর্মসূচি এ বছর শুধু স্মরণসভাতেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং তা ঘিরে তৈরি হল এক বিশেষ রাজনৈতিক আবহ। প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শশীভূষণ প্রসাদ যাদবের স্মৃতিতে আয়োজিত এই দিনটি যেন ভোটের আগে জনমত গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠল।২০১০ সালের ২৯ মার্চ পারবেলিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো শশীভূষণ প্রসাদ যাদব আজও ওই এলাকার মানুষের কাছে জননেতা হিসেবেই স্মরণীয়। তাঁর স্মরণে আয়োজিত মৌন মিছিল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি সভায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি সেই আবেগকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এই আবেগঘন পরিবেশেই উপস্থিত ছিলেন রঘুনাথপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি। ইসিএল ফুটবল গ্রাউন্ড থেকে শুরু হওয়া মৌন মিছিলে তাঁর অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এই উপস্থিতি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং খনি অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি কৌশল। মিছিল শেষে আমডাঙায় আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাজারি বাউরি দাবি করেন, তিনি প্রতি বছরই এই শহীদ দিবসে অংশ নেন, এবং এটি কোনও নির্বাচনী কৌশল নয়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, শহীদের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আবেগকে ভোটের আগে কাজে লাগাতে চাইছে শাসক দল।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ, যার মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি এবং নিহত নেতার ভাই তথা নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শান্তিভূষণ প্রসাদ যাদব।
অন্যদিকে, শহীদ নেতার স্মৃতিতে মূর্তি স্থাপন নিয়েও উঠে এল প্রশাসনিক সমস্যার কথা। শান্তিভূষণ প্রসাদ যাদব জানান, স্থানীয় মানুষের দাবি মেনে মূর্তি তৈরি হলেও রাস্তার সমস্যার কারণে তা এখনও বসানো যায়নি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সেই কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি।









Post Comment