সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
সামনে ভোট। ভোটে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি আন্তঃরাজ্য সীমান্তে। আর এই সীমান্ত মোটেই কম নয়। ৩৮০ কিমি দীর্ঘ পুরুলিয়া ঝাড়খণ্ড সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাতে একদিকে প্রশাসন হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর, অন্যদিকে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় যাতে কোনওভাবেই বেআইনি অর্থ, মাদক বা মাসলম্যান ঢুকতে না পারে, তার জন্য একাধিক স্তরে তল্লাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তল্লাশি চালিয়ে বলরামপুর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জেলাজুড়ে বর্তমানে ২৭টি নাকা পয়েন্ট সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি আন্তঃরাজ্য সীমান্তে। এই নাকা পয়েন্টগুলিকে শুধু পুলিশ বা বাহিনীর উপর নির্ভর করে নয়, সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় আনা হয়েছে। ২৪ ঘন্টা চলছে সিসিটিভি নজরদারি, লাইভ মনিটরিং এমনকি শব্দ শোনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন,
“জেলায় ২৭টি নাকা পয়েন্ট রয়েছে, তার মধ্যে ১৬টি আন্তঃরাজ্য। প্রতিটি পয়েন্টে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। শুধু দেখা নয়, শুনতেও পারছি। পুরো ব্যবস্থাই সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।”
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, এবং আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে আরও ৪ কোম্পানি আসার কথা। এই বাহিনী বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ‘এরিয়া ডমিনেশন’-এর কাজ করছে, যাতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। পুরুলিয়ার সীমান্তবর্তী ১৩টি থানাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এই নিরাপত্তা বলয়—যার মধ্যে বান্দোয়ান ও জয়পুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি সীমান্ত বিস্তৃত। এই অঞ্চলগুলিকে বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে, কারণ অতীতে এই পথগুলি দিয়ে বেআইনি গতিবিধির সম্ভাবনা ছিল।
নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে ফ্লাইং স্কোয়াড টিম বা এফএসটি-র ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেলায় মোট ২৭টি এফএসটি টিম কাজ করছে, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় তিনটি করে। এদের কাজ—অভিযোগ পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়া, ভোটারদের ভয়মুক্ত রাখা এবং অর্থ বা প্রলোভনের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলায় মোট ১৩৭টি স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
একটা সময় ছিলো, যখন মাওবাদী আতঙ্ক ভোটে সবচেয়ে বড়ো প্রভাব ফেলত। পুরুলিয়ায় এখন সেই আতঙ্ক নেই, রয়েছে আন্তঃরাজ্য দুষ্কর্মের আশঙ্কা। সেই বিষয় ঠেকাতে মরিয়া প্রশাসন।









Post Comment