নিজস্ব প্রতিনিধি, বরাবাজার:
ভোট ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক শিবির বদলানোর হিড়িক চলছে পুরুলিয়ায়। খুব সাধারনভাবে বিজেপি ছেড়ে যেমন তৃণমূলে যোগদান হচ্ছে, তেমনই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতেও। আবার শাসক দল ছেড়ে কংগ্রেসে। সেই সঙ্গে ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে কংগ্রেস। আবার সেই কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য তিন দিনের মাথায় আবার ফরওয়ার্ড ব্লকে। ভোট আবহে এমন সবই ঘটনা ঘটছে পুরুলিয়ায়। এদিকে সোমবার বরাবাজার ব্লকে একাধিক যোগদানের ঘটনা ঘিরে চড়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সকাল থেকেই ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি শিবিরে ভাঙন ধরেছে। তুমড়াশোল অঞ্চলে তৃণমূলের বরাবাজার ব্লক সভাপতি বিশ্বজিৎ মাহাতোর হাত ধরে বিজেপির মন্ডল ২-এর সভাপতি শত্রুঘ্ন মাহাতো এবং ক্যেরো গ্রামের পিন্টু সিং সর্দার তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর দুপুরে একই এলাকায় তুমড়াশোলের কনভেনার কুতুবউদ্দিন খান এবং ব্লক সহ-সভাপতি উত্তম মিশ্রের উদ্যোগে আরও একটি পরিবার শাসক দলে যোগ দেয়। পাশাপাশি বরাবাজার টাউন এলাকায় অঞ্চল সভাপতি মিহির সিংহ দেব ও আবুল খানের হাত ধরে আরও একটি পরিবার তৃণমূলে সামিল হয়। দিনের শেষে সন্ধ্যায় ভবানীপুর গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি তথা বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রাজিব লোচন সরেনের উপস্থিতিতে আরও ২২টি পরিবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে বলে দাবি শাসক শিবিরের।
নবাগতদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েই তারা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, “মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত করতেই আমরা স্বেচ্ছায় এই দলে এসেছি।”যদিও এই যোগদানের ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লবসেন বাস্কে দাবি করেছেন, “আমাদের দলের কোনও সক্রিয় কর্মী তৃণমূলে যায়নি। কেউ যদি দল ছেড়ে থাকে, খুব শীঘ্রই তাদের দলে ফিরিয়ে আনা হবে।”
ভোটের আগে এই যোগদান ও পাল্টা দাবিকে ঘিরে বরাবাজারসহ গোটা পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।









Post Comment