insta logo
Loading ...
×

নির্বাচনী বিধি ঘিরে প্রশাসনিক সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন, বিতর্কে শাসক বিরোধী তরজা

নির্বাচনী বিধি ঘিরে প্রশাসনিক সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন, বিতর্কে শাসক বিরোধী তরজা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

নির্বাচনের প্রাক্কালে পুরুলিয়া জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা ও নির্বাচনী বিধি প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনী আচরণ বিধি কার্যকর হওয়ার পর প্রশাসন দাবি করেছিল, সরকারি ভবন থেকে সব ধরনের প্রচারমূলক পোস্টার, হোর্ডিং ও ফ্লেক্স সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র সেই দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, নির্দেশ মেনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি পরিসরে কোনও রাজনৈতিক বা প্রচারমূলক চিহ্ন রাখা হয়নি। বিশেষ করে জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক সুধীর কোন্থাম গত ১৬ তারিখ সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলেন, “মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট অনুযায়ী সব পোস্টার অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে”।

কিন্তু সেই দাবির পরই সামনে আসে ভিন্ন ছবি। জেলা মাইনরিটি ভবনের দেওয়ালে একাধিক জায়গায় এখনও সরকারি প্রকল্পের প্রচারমূলক ফ্লেক্স টাঙানো রয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও স্পষ্ট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রশাসন নিজেই নির্বাচনী বিধি মানতে ব্যর্থ হয়েছে। জেলা বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ জয়দীপ্ত চট্টরাজ বলেন, “নির্বাচনী আচরণ বিধি কার্যকর হওয়ার পরেও যদি সরকারি ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সহ পোস্টার ঝুলে থাকে, তা হলে সেটা স্পষ্ট নিয়ম ভঙ্গ। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।”

অন্যদিকে শাসক দলের তরফে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা সুর শোনা গেছে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সুষেন চন্দ্র মাঝি বলেন, “যদি কোথাও এমন কিছু থেকে থাকে, তা সরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। একইভাবে রাস্তার মধ্যে বিজেপির পতাকা, দোকানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বা বিভিন্ন প্রকল্পের পোস্টারও খতিয়ে দেখা উচিত। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ীই সব কাজ হবে।”

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনী বিধি বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

Post Comment