শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
ভোট-ময়দানে এবার নয়া সমীকরণ। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রাজ্যে শুধু আমলা বা পুলিশ স্তরেই রদবদল নয়, খোদ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া। জেলা আসার পথে মাঝরাস্তাতেই আচমকা বদলি করে দেওয়া হলো খোদ কমিশনের এক পর্যবেক্ষককে! এর পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট-কৌশলেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে কমিশনের নতুন একটি নিয়ম। আগের ২০০ মিটারের গণ্ডি ভেঙে, এবার ভোটের দিন বুথের মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যেই ক্যাম্প অফিস খুলতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলি।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরুলিয়া জেলার জন্য মোট তিনজন এক্সপেন্ডিচার পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন। তাঁদের মধ্যে একজন জেলায় পৌঁছানোর পর ব্যক্তিগত কারণে কমিশনের অনুমতি নিয়ে ফিরে যান। কিন্তু আকস্মিকভাবে, দ্বিতীয় এক এক্সপেন্ডিচার পর্যবেক্ষক পুরুলিয়া আসার পথেই তাঁকে অন্যত্র বদলি করে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় নতুন কে আসছেন, তা নিয়ে এখনও কার্যত অন্ধকারে জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, জেলার ৯টি বিধানসভার জন্য ৯ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক আসার কথা থাকলেও, বুধবার পর্যন্ত কেবল পুরুলিয়া কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঝাড়খণ্ড ক্যাডারের আমলা মহম্মদ আবু ইমরান এসে পৌঁছেছেন। বাকি ৮ জন এখনও জেলায় পা রাখেননি। তবে ইতিমধ্যেই কাজ বুঝে নিয়েছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক।
প্রশাসনিক এই টানাপোড়েন ও রদবদলের মাঝেই অবশ্য ভোট পরিচালনার সামগ্রিক প্রস্তুতি তুঙ্গে রেখেছে প্রশাসন। জেলায় এবার বরিষ্ঠ ভোটারের সংখ্যা ১২,৬৭৩ জন। কমিশনের বিধি মেনে ৮৫ বছরের বেশি বয়সী এই ভোটাররা এবার বাড়িতে বসেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি, ১২,৮৯৩ জন বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারের জন্য সমস্ত বুথে আবশ্যিকভাবে র্যাম্পের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জেলায় মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে ২৫২৯টি (বুথ লোকেশন ২০৬২)। এর মধ্যে যে সমস্ত বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২০০-র বেশি, সেখানে ভোটারদের সুবিধার্থে ২৭৯টি অক্সিলিয়ারি বা অতিরিক্ত বুথ তৈরি করা হচ্ছে। ভোটদানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য পানীয় জল, শৌচালয়, পর্যাপ্ত আলো এবং সঠিক দিশানির্দেশের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি, ভোটাররা বুথে মোবাইল নিয়ে এলে তা নিরাপদে জমা রাখার জন্য ‘মোবাইল ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি’-র ওপরও এবার বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন।










Post Comment