insta logo
Loading ...
×

ধামসা মাদলের ছন্দে পুরুলিয়ায় ভোটারদের বুথমুখী করবে যমজ ভাই পলাশ-শিমুল

ধামসা মাদলের ছন্দে পুরুলিয়ায় ভোটারদের বুথমুখী করবে যমজ ভাই পলাশ-শিমুল

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

ভোট মানেই শুধু রাজনৈতিক প্রচার নয়, তার সঙ্গে জুড়ে থাকে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের অংশগ্রহণ। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে এবার ভোটের প্রচারে অভিনব উদ্যোগ নিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। জঙ্গলমহলের এই জেলায় ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী করতে এবার মাঠে নামছে দুই যমজ ভাই—পলাশ ও শিমূল। ধামসা ও মাদলের তালে তালে তারা ছড়িয়ে দেবে একটাই বার্তা—“ধামসা মাদলের ছন্দে, ভোট দিন আনন্দে।”

সোমবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স হলে এই ম্যাসকটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলাশাসক সুধীর কোন্থাম। প্রশাসনের মতে, ভোটকে উৎসবের রূপ দিতে এবং মানুষের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকেই পলাশ–শিমূল জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে। কখনও টোটোতে, কখনও ট্যাবলোতে, আবার কখনও কার্টআউটের মাধ্যমে তারা প্রচার চালাবে। লক্ষ্য একটাই জেলার প্রত্যন্ত এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছে তাদের নির্ভয়ে ভোটদানে উৎসাহিত করা।
এই দুই ম্যাসকটের সাজসজ্জায় ফুটে উঠেছে পুরুলিয়ার আদিবাসী সংস্কৃতির ছাপ। সবুজ, নীল ও কালো চেক ধুতি, মাথায় হলুদ গামছা—এই পোশাকে উপজাতি জীবনের প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হলুদ রঙের উপস্থিতি সেই সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করছে।

জেলাশাসক সুধীর কোন্থাম জানান, “পলাশ ফুল পুরুলিয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বসন্তের সময় পলাশ ও শিমূল ফুলে এই জেলার প্রকৃতি অন্যরকম সৌন্দর্য পায়। ঠিক এই সময়েই ভোট হওয়ায় সেই প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীককেই সামনে রেখে ধামসা–মাদলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এই ম্যাসকট তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটারদের কাছে সহজভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”

ভোটের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে জোরকদমে শুরু করেছে প্রশাসন। জেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ায় মোট ভোটকর্মীর সংখ্যা ১২,৬৪৫। বুথের সংখ্যা ২,৫২৯ হলেও অতিরিক্ত ২৭৯টি অক্সিলিয়ারি বুথ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ক্রিটিক্যাল বা ভালনারেবল বুথের সংখ্যা ১,১২০। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের ওপর নির্ভর করে এই সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে।

ম্যাসকট উদ্বোধনের আগে ওই দিন একই কনফারেন্স হলে সর্বদলীয় বৈঠকও হয়। সেখানে জেলা প্রশাসনের তরফে নির্বাচন আচরণবিধি , মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং ভোট প্রচারের নিয়মাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উল্লেখ্য, পুরুলিয়ার ম্যাসকট প্রতি নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে আলাদা নজর কেড়ে থাকে। অতীতে ‘ভোটেশ্বর’ এবং ‘পলাশমনি’ যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, এমনকি পুরস্কারও পেয়েছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় পলাশ–শিমূলও ভোট উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

Post Comment