নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
বকেয়া ডিএ, স্থায়ী পদে নিয়োগ সহ বিভিন্ন দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডাকা রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের দিনে পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক দপ্তরগুলিতে হাজিরা মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসনিক ভবন সহ অধিকাংশ সরকারি দপ্তর খোলা ছিল এবং কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল স্বাভাবিক।
তবে এদিন সকালে পুরুলিয়া শহরের জেলা শিক্ষা ভবনকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। ধর্মঘট সমর্থনকারী কিছু কর্মী শিক্ষা ভবনের মূল গেটের সামনে অবস্থান নিলে অফিসে আসা কর্মীদের প্রবেশ নিয়ে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ, কিছু তৃণমূল নেতা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন জানান, “জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কোথাও স্কুল বন্ধ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এসআইদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শিক্ষাভবনে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”
অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠনের একাংশের দাবি, ধর্মঘটের প্রভাব জেলার বেশ কিছু উচ্চবিদ্যালয়ে পড়েছে। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক ব্যোমকেশ দাস জানান, “জেলার বহু উচ্চবিদ্যালয়ে এদিন পঠনপাঠন ব্যাহত হয়েছে এবং প্রাথমিক স্তরেও কিছু ক্ষেত্রে উপস্থিতি কম ছিল”।
জেলা প্রশাসন সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, সামগ্রিকভাবে জেলার প্রশাসনিক কাজকর্মে বড় ধরনের কোনও প্রভাব পড়েনি। সরকারি দপ্তরগুলিতে নিয়মিত পরিষেবা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ধর্মঘটকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একদিকে সরকারি পরিষেবা সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরার অধিকারের কথাও উল্লেখ করেছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে দিনের শেষে ধর্মঘটকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে।











Post Comment