সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
আসন্ন নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং দলীয় স্তরে সমন্বয় বাড়াতে নতুন রূপরেখা তৈরির পথে হাঁটল পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। বুথ থেকে শুরু করে অঞ্চল, ব্লক এবং জেলা স্তর—সব স্তরের নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকরী সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট বার্তা, প্রার্থী ঘোষণার পর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে হবে।
শুক্রবার পুরুলিয়া শহরের সাহেব বাঁধ এলাকায় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির প্রথম বৈঠক। সেখানে সংগঠনকে আরও কার্যকর করে তুলতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা নেতৃত্বের মতে, বৃহৎ আকারের জেলা কমিটিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব বণ্টন করা হবে, যাতে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও গতিশীল হয়।
জেলা সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন বৈঠক শেষে জানান, “দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করবে, সেই প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত মতভেদ থাকলেও দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে।”
বৈঠকে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে বিভিন্ন রেল প্রকল্প ঘিরে জঙ্গলমহলের মানুষের মধ্যে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তাকে ভোট- ভাঁওতা বলে উল্লেক করে তার যথাযথ রাজনৈতিক জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও দলকে আরও সংগঠিত হতে হবে বলে জানান জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো। তিনি বলেন,” বুথ, অঞ্চল, ব্লক ও জেলা স্তরের নেতৃত্বের মধ্যে সুসংহত যোগাযোগ এবং সমন্বয়ই সংগঠনের শক্তি বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি। সেই সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, ততই মাঠে নেমে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।”
তবে বৈঠকে আত্মসমালোচনার সুরও শোনা যায়। জেলা নেতৃত্বের একাংশের মতে, অতীতে সংগঠনের ভেতরে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় অনেক সময় দলীয় কর্মসূচি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। গোষ্ঠীর কোন্দল, নির্বাচনের সময় পারস্পরিক প্রতিযোগিতা নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী নির্বাচনী অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করতে গিয়ে এই বিষয়টি সামনে আসে। নেতৃত্বের মতে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবার সংগঠনকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির আকার বড় হওয়ায় বিভিন্ন সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব দিয়ে সংগঠনের কাজকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এতে করে বুথ স্তর পর্যন্ত দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন নেতৃত্ব।
জেলা তৃণমূলের নেতৃত্বের দাবি, সংগঠনের ভেতরে সমন্বয় জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী লড়াইয়ে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আগামী দিনে দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কাজ আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।











Post Comment