insta logo
Loading ...
×

‘নো ভোট’ ব্যানার বিতর্কে ড্যামেজ কন্ট্রোল রাজীবের

‘নো ভোট’ ব্যানার বিতর্কে ড্যামেজ কন্ট্রোল রাজীবের

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দোয়ান:

নো ভোট টু রাজীবলোচন সরেন, প্রতিমা সরেন। এমন পোস্টার ঘিরে মানবাজার ২ নং ব্লকের বারি জাগদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় হঠাৎ করেই প্রকাশ্যে আসে তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভ। হোলির রাতেই এলাকা পড়েছিল সেই চমকে দেওয়া ব্যানার, লেখা ছিল— “নো ভোট টু রাজীবলোচন সোরেন ও প্রতিমা সোরেন”। ব্যানারের তলায় বারি–জাগদা অঞ্চলের নাম এবং অভিষেকের ছবি ও তৃণমূলের প্রতীক থাকায় বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এবং বান্দোয়ান বিধানসভার বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেনের নাম জড়িয়ে পড়ায় দলের ভেতরেই অস্বস্তি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে তাঁর স্ত্রী প্রতিমা সোরেনের নামও ওই ব্যানারে উল্লেখ থাকায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়। প্রতিমা সোরেন বর্তমানে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ।

দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হয় জেলা নেতৃত্ব। শুক্রবার মানবাজার ২ ব্লকের বারি–জাগদা অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় অঞ্চল নেতৃত্ব, ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব এবং জেলা নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ও ওই এলাকার বাসিন্দা নিয়তি মাহাতোও।
বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয় ব্যানার-কাণ্ড নিয়ে। সূত্রের খবর, আলোচনার শেষে স্থানীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্র থেকে রাজীবলোচন সোরেন প্রার্থী হলে তাদের কোনও আপত্তি নেই। যারা ব্যানার লাগানোর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারাও বৈঠকে উপস্থিত থেকে নিজেদের ভুল স্বীকার করেন বলে জানা যায়। তাঁদের বক্তব্য, কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভের জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছিল।
এদিনের বৈঠকে বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন বলেন, দলের মধ্যে মতভেদ বা ক্ষোভ থাকতেই পারে, কারণ তৃণমূল একটি বড় সংগঠন। তবে সেই ক্ষোভ প্রকাশের পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরও জানান, যে সমস্ত কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল তা আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে এবং যারা ব্যানার লাগিয়েছিলেন তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আলোচনার সময় রাজীবলোচন সোরেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি স্থানীয় নেতৃত্ব চান, তবে ভবিষ্যতে নতুন মুখও বিধায়ক পদপ্রার্থী হতে পারেন। একই মুখ দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় থাকার বিষয়েও তিনি খোলামেলা মত প্রকাশ করেন। তবে তাঁর এই মন্তব্যের পরেই স্থানীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাঁদের পক্ষ থেকে আর কোনও আপত্তি নেই এবং প্রার্থী হিসেবে রাজীবলোচন সোরেনকেই দেখতে চান তারা।বৈঠকে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে, তা হল অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় অসন্তোষ। অভিযোগ, এই নিয়োগকে ঘিরেই মূলত ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই বিধায়ক বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন বলে জানা যায়। পাশাপাশি এলাকার স্কুল এবং ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

বৈঠকের শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে বলে দাবি স্থানীয় নেতৃত্বের। বারি–জাগদা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সঞ্জীব মাহাতো জানান, এখন আর কোনও সমস্যা নেই এবং সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে গেছে।
এছাড়াও বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শনিবার থেকেই ওই এলাকায় তৃণমূলের দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু হবে। দলীয় সংগঠনকে আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব।

Previous post

ডিএ দয়ার দান নয়, অর্জিত অধিকার! বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সহ ৮ দফা দাবিতে পুরুলিয়ায় বিক্ষোভে উত্তাল এবিটিএ

Next post

অভিষেকের অনুপ্রেরণা, কাশিপুরে তিন দিনের ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির শুরু, বিনামূল্যে চিকিৎসায় উপকৃত মানুষ

Post Comment