নিজস্ব প্রতিনিধি, বলরামপুর :
বিজেপির ঝান্ডা বাঁধাকে কেন্দ্র রণক্ষেত্র বলরামপুর। শুক্রবার দুপুরে বলরামপুর থানার রসুলডি গ্রামে বিজেপির নেতা-কর্মীরা পরিবর্তন যাত্রার জন্য ইলেক্ট্রিসিটি পোলে পতাকা বাঁধতে গেলে ওই গ্রামের মানুষজন বাধা দেন বলে অভিযোগ। তারপরেই শুরু হয়ে যায় বচসা। বচসা থেকে খণ্ড যুদ্ধ। সেসময় রসুলডি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা পাথর ছুঁড়ে বিজেপি নেতা- কর্মীর ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ । হামলায় বিজেপির ৬ জন জখম হন। জখম হন বলরামপুর থানার আইসি অর্ণব গুহও। বলরামপুরের বিজেপি বিধায়ক বানেশ্বর মাহাতো সহ পুরুলিয়া জেলা বিজেপির এক সাধারণ সম্পাদকের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় । বলরামপুর থানার পুলিশ সেখানে দ্রুত গিয়ে জখমদের উদ্ধার করে বাঁশগড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু তাদের আঘাত গুরুতর থাকায় চিকিৎসক তাদের দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। এদিন সন্ধ্যায় তাদেরকে দেখতে যান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ বলেন, ” গাড়ি ভেঙে, যাত্রা আটকে টিএমসি জিততে পারবে না।” পুলিশের বিরুদ্ধে রীতিমতো শালীনতা ছাড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, “কয়েকটা ‘চামচা’ পুলিশ কিছু গুন্ডা দিয়ে ইলেকশন বারে বারে জেতা যায় না। আমরা জানতাম হামলা হবে। হামলা করে এতদিন জিতে এসেছে। কিন্তু এবার পাবলিক জবাব দেবেন। পরিবর্তন নিশ্চিত।” এদিন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা নিয়েও কটাক্ষ করেন। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, “বিজেপির পতাকা বাঁধাকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়। কয়েকজন জখম হন। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমাদের কয়েকজন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন সে বিষয়টিও আমরা দেখছি।”
এদিন বিধায়ক বানেশ্বর মাহাত বলেন -” আমি দেখতে পাই প্রচুর মানুষজন টাঙি, তরোয়াল, ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। আমি না থাকলে আমাদের কর্মীদেরকে খুন করে দিত। এমনকি আমাকেও খুন করে দিত। আমার নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে বাঁচিয়েছেন।”
জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথ পুরুলিয়া শহর , জয়পুর বিধানসভা , বাঘমুন্ডি বিধানসভা হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বলরামপুর যাবে।










Post Comment