insta logo
Loading ...
×

কফিনবন্দী পরিযায়ী শ্রমিক অনাদির দেহ গ্রামে ফিরতেই শোক, বাড়িতে রাজনৈতিক নেতারা

কফিনবন্দী পরিযায়ী শ্রমিক অনাদির দেহ গ্রামে ফিরতেই শোক, বাড়িতে রাজনৈতিক নেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি , কোটশিলা :

কথা দিয়েছিলেন স্ত্রীকে, আসবেন ভোট দিতে। এলেন, রাখলেন না কথা। বেঙ্গালুরু থেকে কফিনবন্দী অবস্থায় তরতাজা যুবক অনাদি মাহাতোর দেহ গ্রামে ফিরতেই শোকে ভেঙে পড়ল গোটা এলাকা। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে হাহাকার কোটশিলা থানার খৈরি গ্রামে। এরই মাঝে ভোটের আবহে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে একের পর এক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আনাগোনা।

ঝালদা–২ নং ব্লকের মাঝিডি গ্রাম পঞ্চায়েতের খৈরি গ্রামের বাসিন্দা অনাদি মাহাতোর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রথমেই এসেছিলেন শাসক দল তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। পরে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতোর নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরাও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। বৃহস্পতিবার খানিকটা দেরিতে হলেও সেখানে পৌঁছান জয়পুরের বিজেপি বিধায়ক নরহরি মাহাতো। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য কর্ণাটক সরকারের দ্বারস্থ হবো।”

এদিকে মৃতদেহ আনা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যে কোম্পানিতে অনাদি কাজ করতেন সেই কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল বৃহস্পতিবার সকালে বিমানে দেহ পাঠানো হবে। পরে জানা যায় সন্ধ্যা ৬টার বিমানে দেহ রওনা দিয়েছে। রাত প্রায় ৮টা ৪৫ নাগাদ ঝাড়খণ্ডের বিমানবন্দরে পৌঁছায় কফিন, সেখান থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে প্রথমে কোটশিলা থানা তারপর গ্রামে আনা হয় মরদেহ। শুক্রবার সকালে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ভোরে শ্রদ্ধা জানাতে যান বিশিষ্ট সমাজসেবী দিব্যজ্যোতি সিং দেও, তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি বিভিতিভূষণ মাহাতো, জয়পুর ব্লক তৃণমূল কমিটির সদস্য ভরত ভান্ডারী প্রমুখ।

পুজোর পর কাজের জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন অনাদি। কয়েকদিন আগেও স্ত্রীকে বলেছিলেন ভোট দিতে গ্রামে ফিরবেন। কিন্তু ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। গত দু’বছরে ভিনরাজ্যে পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকদের একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে জেলার বহু পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার।

Post Comment