নিজস্ব প্রতিনিধি,বান্দোয়ান:
নো ভোট টু রাজীবলোচন সরেন, প্রতিমা সরেন। সস্ত্রীক বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টার। পোস্টার পড়ল তাঁরই বিধানসভা এলাকায়। পোস্টারকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে চাপানউতোর। বুধবার রাতে মানবাজার ২ নং ব্লকের বারি–জাগদা অঞ্চলে ‘নো ভোট টু রাজীবলোচন সোরেন ও প্রতিমা সোরেন’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। জেলা সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন এবং পুরুলিয়া জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ প্রতিমা সোরেন-কে নিশানা করেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। ব্যানারে ‘সৌজন্যে বারি–জাগদা অঞ্চল’ লেখা থাকলেও অঞ্চল তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই ব্যানার সমর্থন করে না।
প্রসঙ্গত দলের অন্দরে একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা বান্দোয়ান বিধায়ক রাজীবলোচন সরেনকে।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, বারি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোগত দুরবস্থা এবং বারি হাইস্কুলে শিক্ষক-সংকট। এই তিন ইস্যু এখন মানবাজার২ ব্লকের বারি জাগদা অঞ্চলে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। আর এই তিন ক্ষেত্রেই অভিযোগ রাজীবলোচনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি জেলা নেতৃত্বের নজর কেড়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি ওই এলাকায় তিনজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ পান। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের মধ্যে দু’জন প্রভাবশালী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত।একজন শিক্ষকের স্ত্রী ও অন্যজন পুলিশের স্ত্রী। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসীর একাংশ। যদিও কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি, তবু এই অভিযোগই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে, বারি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থা নিয়েও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নতি, চিকিৎসক- স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিষেবা জোরদারের দাবিতে বহুবার আবেদন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। একইসঙ্গে বারি হাইস্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৩টি গ্রামের পড়ুয়ারা এই স্কুলের উপর নির্ভরশীল; ছাত্রসংখ্যা বেশি হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে এমন অভিযোগও উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে অঞ্চল সভাপতি সঞ্জীব মাহাতোর কথায়, “দলের কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে, তবে তা দলের মধ্যেই আলোচনায় মেটানো উচিত।”
মানবাজার ২ নং ব্লক তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার জেলা সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন ক্ষুব্ধ কর্মী ও অঞ্চল নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে নিয়োগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্কুল-সংকট—সব ইস্যুই আলোচনায় উঠতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। জেলা সভাপতির সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “সমস্যা থাকলে দলীয় স্তরেই আলোচনা হবে।”
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও বিষয়টি নিয়ে সরব। একুশের বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী হওয়া পার্শী মুর্মু কটাক্ষ করে বলেন, “শাসকদলের অন্দরের অসন্তোষই এখন প্রকাশ্যে আসছে। তাঁর দাবি, প্রার্থী যদি অপরিবর্তিত থাকে, তা হলে বিরোধীদের পক্ষে লড়াই সহজ হবে”।
অন্যদিকে রাজীবলোচন সোরেন জানিয়েছেন, “সমস্যার বিষয়গুলি দলীয় স্তরে বসে আলোচনা করেই সমাধানের চেষ্টা হবে। প্রার্থী বদল থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সমন্বয়, সব দিক খতিয়ে দেখা হবে”।
প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কেবল গোষ্ঠী কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ, নাকি দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়ার ফল? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রকাশ্য অসন্তোষ বিপাকে ফেলছে শাসকদলকেই।











Post Comment