নিজস্ব প্রতিনিধি, কোটশিলা :
উদ্যোগ নিলেন অভিষেক। উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতোও। আর তারই জেরে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরছে পরিযায়ী শ্রমিক অনাদি মাহাতো(২৯)র দেহ। তার বাড়ি ঝালদা ২নং ব্লকের মাঝিডি গ্রাম পঞ্চায়েতের খৈরি গ্রামে ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে একটি কোম্পানিতে রাঁধুনির কাজ করতেন। মঙ্গলবার বাড়িতে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয় ।
ওই দিন মৃতদেহ উদ্ধারের পরেও ময়নাতদন্ত না হওয়ায় তার পরিবারের লোকজন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো ও শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপরই উজ্জ্বল কুমার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে জানান। এরপরই সেখান থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়। জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো ওই এলাকার জেলাশাসক, পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলেন ভারতুর থানার ওসির সাথেও। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃতদেহ বাড়ি ফেরার কথা।
মঙ্গলবার রাতেই ওই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানায় প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার। বুধবার বিকালে দলের নেতা- কর্মীদের নিয়ে ওই মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে যান কংগ্রেস জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতোও। আর্থিক সাহায্যও করেন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চাও ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ১১ টা থেকে প্রায় ১২ টা পর্যন্ত তার স্ত্রী প্রীতিলতা মাহাতোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অনাদি। ওই সময়েই ৩ বছরের ছেলে ও ৬ বছরের মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলও করেন। স্ত্রী প্রীতিলতা বলেন, “প্রতিদিন ভোরবেলা রান্না করে কাজে বার হয়। তাই রাতে কথা বললেও ভোর ৪ টার সময় আমাকে ফোন করবেই। মঙ্গলবার ভোরে করেনি। ফলে আমার সন্দেহ হয়েছিল। আমি ওর ফোনে যোগাযোগ করলেও পাইনি। ওর সহকর্মীদেরকে ফোন করলে জানতে পারি ওর শরীর অসুস্থ। তারপরেই ওখান থেকে ফোনে জানানো হয় আমার স্বামী মারা গিয়েছে। যে মানুষটা রাত পর্যন্ত কথা বলল, সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কী এমন হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারছি না। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। “









Post Comment