শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার শিল্পাঞ্চল রঘুনাথপুরে দোলের রং এবার নিছকই কালো! ২০০-র বেশি ‘রেড ক্যাটাগরি’ বা চরম দূষণকারী কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকার বায়ুমান সূচক ইতিমধ্যেই ২০০ ছাড়িয়েছে। ঘরে ঘরে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি আর চর্মরোগ। দূষণের জেরে কালো হয়ে যাচ্ছে পলাশ ফুল, খেতের ফসল থেকে শুরু করে পুকুরের জল; মার খাচ্ছে গড় পঞ্চকোটের পর্যটনও। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির প্রতিবাদেই মঙ্গলবার দোলের দিন মুখে কালো রং মেখে, কালো মাস্ক পরে অভিনব ‘ব্ল্যাক হোলি’ পালন করলেন ঝাড়ুখামার এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা সাফ জানাচ্ছেন, দূষণহীন ‘গ্রিন ক্যাটাগরি’ শিল্প এলে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু মিছিল থেকে একটাই জোরালো স্লোগান উঠল, “আমরা কাজ চাই, কিন্তু আমাদের বাচ্চাদের ফুসফুস বিক্রি করে নয়।”
এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে নতুন একটি স্পঞ্জ আয়রন কারখানা তৈরির খবর। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৭ সালে বাম আমলে জয় বালাজি সংস্থাকে দেওয়া ১৩৪ একর পরিত্যক্ত জমিতে কোনওরকম জনশুনানি ছাড়াই ঘেরাটোপের কাজ শুরু করেছে একটি শিল্প সংস্থা। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড -এর নিয়ম অনুযায়ী, জনবসতি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে এমন লাল তালিকাভুক্ত কারখানা গড়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এই বেনিয়মের প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ‘ব্ল্যাক হোলি ২০২৬’ এবং ‘সেভ পুরুলিয়া’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে আছড়ে পড়েছে ডিজিটাল প্রতিবাদ। ছৌ নাচের আবেগ উসকে দিয়ে নেটিজেনরা লিখছেন, “ছৌ-এর বীরভূমিতে আজ অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ”।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে। রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক বিবেক পঙ্কজ জানিয়েছেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি দেখা হচ্ছে”। তবে শুধু আশ্বাসে চিঁড়ে ভেজাতে নারাজ স্থানীয়রা। প্রতিবাদী বাসিন্দা সরোজ মিশ্রের কড়া হুঁশিয়ারি, “লুকিয়ে লুকিয়ে জমির বেড়ার কাজ করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করতে বাধ্য হব”। এলাকায় কোনোভাবেই নতুন করে দূষণের বিষ ছড়াতে দিতে রাজি নন স্থানীয়রা। প্রশাসন অবিলম্বে সদর্থক পদক্ষেপ না গ্রহণ করলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ মানুষজন।










Post Comment