নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
“মাওবাদীদের নাম করে জঙ্গলমহলের গ্রামে গ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছিল। শত শত সিপিআইএম নেতা কর্মীকে সেসময় ‘শহিদ’ হতে হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও লাল ঝান্ডাকে নিশ্চিহ্ন করা যায়নি”। সোমবার পুরুলিয়ার বোঙাবাড়িতে নির্বাচনী জনসভা থেকে এভাবেই হুঙ্কার দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যখন দলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ, তখন একসময়ের ‘লাল দুর্গ’ জঙ্গলমহলের এই জনসভায় উপচে পড়া ভিড় যেন অন্য কথাই বলছে। এদিন বোঙাবাড়ির মহামিছিলে পা মেলানোর পাশাপাশি, মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে আগামী ৪ মার্চ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ঘেরাও করার ডাকও দেওয়া হয় বামেদের এই মেগা সভা থেকে।
এদিনের মিছিল শেষে রাজ্য সম্পাদক সেলিম বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোর অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “আগেকার দিনে মানুষ অন্ধকারে পথ হারালে আকাশের ধ্রুবতারা দেখে সঠিক পথের দিশা পেতেন। আজকের এই রাজনীতির চরম অন্ধকারে কৃষকের কাস্তে আর শ্রমিকের হাতুড়িই হল মানুষের কাছে সেই ধ্রুবতারা”। এদিনের কর্মসূচিতে মহম্মদ সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরি এবং জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়-সহ অন্যান্যরা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করেন আভাস রায়চৌধুরি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের ছাত্র, যুব, মহিলা ও কৃষক সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্রেফ রাজনীতির তাস খেলছে কেন্দ্রের শাসক ও রাজ্যের শাসকদল। তাঁর কথায়, “পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন বামফ্রন্ট সরকার দেখেছিল, এই দুই দল তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে”। এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান ছিনিয়ে নেওয়া এবং ধর্মের নামে বিভাজনের বিষ ছড়িয়ে রাজ্যের সম্প্রীতি নষ্ট করারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এই জোড়া আক্রমণ থেকে বাংলাকে রক্ষা করতেই ফের লাল ঝান্ডার প্রয়োজন বলে জোরালো দাবি তোলেন এই সিপিএম নেতা।











Post Comment