নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:
ভোটের মুখে ফের কেন্দ্রীয় কমিশন পাঠিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে, এমনই অভিযোগ তুলে জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশনের রিভিউ বৈঠক ঘিরে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার জেলা পরিষদ ভবনে পুরুলিয়ায় কমিশনের পর্যালোচনা বৈঠকের পর সদস্যা তথা রাঁচির বিজেপি নেত্রী আশা লাকরার মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে শাসকদল।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর পরেই হঠাৎ আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রের ‘দরদ’ বেড়েছে। তাঁদের বক্তব্য, জেলা তৃণমূল সভাপতি নিজেই জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। পাশাপাশি জেলা থেকে নির্বাচিত পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডুও আদিবাসী সমাজের মানুষ। তাই এতদিন পর পুরুলিয়ার জনজাতিদের সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের সক্রিয়তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই অভিযোগ শাসকদলের।
রিভিউ বৈঠকের পর আশা লাকরা জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩৮(ক)-এর অধীনে গঠিত জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশনের প্রতিনিধি দল পুরুলিয়ায় জনজাতি সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসে। তাঁর সঙ্গে কমিশনের আর এক সদস্য নিরূপম চাকমাও উপস্থিত ছিলেন।
লাকরার অভিযোগ, একটি সাংবিধানিক সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা বৈঠকে উপস্থিত থাকেননি। তাঁর দাবি, জেলা শাসক, পুলিশ সুপার বা ডিএফও কেউই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেননি বা কোনও লিখিত বক্তব্যও জমা দেননি। এতে জনজাতি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়নি বলেই মন্তব্য তাঁর।
কমিশনের সদস্যার দাবি, অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় প্রায় ৭৬টি গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই আদিবাসী। অথচ সেখানে গ্রামসভা না করেই আইন লঙ্ঘন করে রিসর্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতামত নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও সমস্যা তুলে ধরেন শ্রীমতী লাকরা। তাঁর বক্তব্য, অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পর বহু আদিবাসী ছাত্রছাত্রী উচ্চতর শ্রেণিতে ভর্তি হতে গিয়ে জাতিগত শংসাপত্র না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ছে। অনলাইনে বা প্রশাসনিক স্তরে শংসাপত্র তৈরি না হওয়ায় অনেককে অন্যত্র পাড়ি দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কমিশনের মতে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা বৈঠকে উপস্থিত থাকলে অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা যেত এবং জনজাতি উন্নয়নের পথে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হত। আধিকারিকদের অনুপস্থিতি থেকেই জনজাতি উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে যায় বলেও মন্তব্য লাকরার।
তিনি জানান, কমিশন সরাসরি নোটিস জারি করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রায় ১৭টি দফতরকে যুক্ত করে জনজাতি গ্রামগুলির উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে এখনও পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হবে বলেও জানান কমিশনের সদস্যা।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে। আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও দাবি তাঁদের। এস আই আর আতঙ্কে যখন জেলার একের পর এক আদিবাসী মানুষের মৃত্যু হলো, তখন কোথায় ছিলো কমিশন? প্রশ্ন শাসক দলের নেতাদের।
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন বলেন , “ভোটের ঠিক আগেই পর্যালোচনা বৈঠক করতে জাতীয় জনজাতি কমিশনের টিম জঙ্গলমহলে পাঠিয়ে দেওয়া স্রেফ বিজেপির রাজনীতি। মানুষজনকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে কেন্দ্র। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির চেয়ে বাংলায় আদিবাসীদের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।”










Post Comment