পুরুলিয়া মিরর ডিজিটাল ডেস্ক
ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন আবারও সামনে এল পুরুলিয়ার আরও এক ঘটনার পর। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার কোটশিলা থানার চেক্যা গ্রামের বাসিন্দা প্রসন্ন কুমারের (৩৯) বেঙ্গালুরুতে কর্মরত অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে । তবে মৃত্যুর কারণ এখনও রহস্যঘেরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পরদিন সকাল থেকে ফোনে আর পাওয়া যায়নি তাঁকে। বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে অন্য এক ব্যক্তি ফোন ধরে মৃত্যুর খবর জানান। কিন্তু কীভাবে, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।
প্রসন্ন কুমার দীর্ঘদিন ধরে বেঙ্গালুরু-র সাম্পিগেহাল্লি থানা এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি, কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক স্তরেও সাড়া পড়ে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং মৃতদেহ দ্রুত বাড়িতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছেন। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নেমেছে।
শনিবার রাতে কোটশিলা থানার চেক্যা গ্রামে আসে জেলা তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। ছিলেন জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো, জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীব লোচন সরেন, বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো, ঝালদা ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপক সিং প্রমুখ। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দেহের ময়নাতদন্ত, দেহ ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা।
কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল প্রসন্নর। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী ছাড়াও পরিবারে রয়েছে দুই নাবালক সন্তান। হঠাৎ এই মৃত্যুসংবাদে কার্যত দিশেহারা পরিবার।স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন মৃতের মা ও স্ত্রী।











Post Comment