সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
অবৈধ নার্সিংহোম ও প্যাথলজি সেন্টারের বিরুদ্ধে কড়া অভিযানে নামছে পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। নিয়ম না মেনে অস্ত্রোপচারের অভিযোগে জেলার দু’টি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুরুলিয়া মিরর-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের সন্নিকটে রাঁচি রোডের লাগদা ওম নার্সিংহোম এবং কোটশিলার নিউ লাইফ লাইন নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা জুড়ে কতগুলি বেআইনি নার্সিংহোম ও প্যাথলজি সেন্টার রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। প্রতিটি ব্লকে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে টিম। সেই দলে রয়েছেন এএনএম, কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও কমিউনিটি হেলথ অফিসাররা।
লাগদা ওম নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে শো-কজ করা হয়েছে এবং আপাতত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, ওই নার্সিংহোমের কোনও সরকারি লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স ছাড়াই সেখানে অস্ত্রোপচার চলছিল। অভিযোগ, সম্প্রতি ডা. স্নেহাংশু কলা নামে এক চিকিৎসক সেখানে অপারেশন করেন। তাঁকেও শো-কজ করা হবে বলে জানান সিএমওএইচ।
জানা গিয়েছে, রিতা পরামানিক নামে এক রোগী ওই নার্সিংহোমে হার্নিয়ার অপারেশন করান। তিন মাস পর ফের সমস্যা দেখা দিলে তাঁকে আবার অস্ত্রোপচারের কথা বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে রোগীর পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর আগে পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক ত্রুটি পান আধিকারিকরা। সেই কারণেই আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ত্রুটি না সারালে লাইসেন্স দেওয়া হবে না। পরে রিতা পরামানিকের পরিবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে কোটশিলার নিউ লাইফ লাইন নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটি সিল করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। অভিযোগ, সেখানে নিয়ম না মেনে এক মহিলার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। ঝাড়খণ্ড থেকে এক সার্জেনকে এনে অস্ত্রোপচার করানো হয়, যিনি গাইনোকোলজিস্ট নন। পাশাপাশি, ২৪ ঘণ্টা কোনও মেডিকেল অফিসার না থাকা, অপারেশনের সময় অ্যানাস্থেসিস্ট ছিলেন কি না— তারও স্পষ্ট উল্লেখ নেই রিপোর্টে। অস্ত্রোপচারের পর ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঝাড়খণ্ডের বোকারোতে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সিএমওএইচ অশোক বিশ্বাস জানান, “রোগীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”










Post Comment