নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুন্ডি:
হাতির হানায় বৃদ্ধের মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দিল বনদফতর। প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় বন বিভাগের নজরদারিতে। মঙ্গলবার রাতে সুবর্ণরেখা নদীর মার্চা ঘাটে গুরুচরণ সিং মুড়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে বনদফতরের বিশেষ যান ‘ঐরাবত’ এনে তার আলো জ্বালিয়ে এলাকায় মোতায়েন করা হয় এবং র্যাপিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা পুরো সময় জুড়ে নিরাপত্তার দেখভাল করেন। কারণ একটাই। যে শ্মশানে গুরুচরণ বাবুর দাহকার্য হচ্ছিল, তার খুব কাছেই রয়েছে খুনি দাঁতাল।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করা হয়। বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত নিহতের বড় ছেলে কালিচরণ সিং মুড়ার হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার এককালীন আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক, ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং পুরুলিয়া বন বিভাগের একাধিক রেঞ্জের কর্মকর্তারা। তবে ডিএফও এলেন না কেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় হাতির গতিবিধি নজরে রেখে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অযোধ্যা রেঞ্জের গোবরিয়া জঙ্গলে একটি দলছুট দাঁতাল এবং একটি হাতির দল অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঝালদা রেঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও আরেকটি দলছুট হাতির উপস্থিতির খবর মিলেছে। যাতে ফের সীমান্ত পেরিয়ে হাতিটি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে না পারে, সে জন্য বনকর্মীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাজ্যের নির্দেশ অনুযায়ী হাতি উপদ্রুত এলাকায় বনকর্মীদের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা। বাস্তবে বনদফতরের রিপোর্টে আগের দিন একটি হাতির অবস্থান চিহ্নিত করা হলেও পরদিন তার সঠিক গতিবিধি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে না পারায় নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।







Post Comment