insta logo
Loading ...
×

জনস্বার্থ মামলায় আড়শার সেতু ঘিরে আদালতের নির্দেশ, জানুন আপডেট

জনস্বার্থ মামলায় আড়শার সেতু ঘিরে আদালতের নির্দেশ, জানুন আপডেট

দেবীলাল মাহাত, আড়শা:

শিলান্যাসের পর পেরিয়ে গিয়েছে এক দশক । কংসাবতী নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। কিন্তু পুরুলিয়া ১নং ব্লকের কাটাবেড়া ও আড়শা ব্লকের বামুনডিহা নদী ঘাটে সেতু তৈরির কাজ আজও শেষ হল না । তার পর থেকে এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেছেন। তবু কাজ শুরু হয়নি । তারপর থেকেই দুটি ব্লকের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা বাঁশের সেতু। যাতায়াতের সমস্যা মেটাতে সেই অর্ধসমাপ্ত সেতুর কাজ কবে শেষ হবে, সেই প্রশ্ন তুলে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন তুম্বাঝালদা গ্রামের বাসিন্দা অম্বরীশ মাহাত। সম্প্রতি সেই জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান সচিবকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, কাঠ ও বাঁশের তৈরি বর্তমান সেতু জনসাধারণের চলাচলের পক্ষে নিরাপদ নয়। রাজ্যের তরফে আইনজীবী আদালতকে জানান , এই বাস্তবতা স্বীকার করেই সেতু নির্মাণের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছিল এবং কাজও শুরু হয়েছিল।
তার প্রেক্ষিতে আদালত রাজ্যের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে, অসম্পূর্ণ সেতু নির্মাণের কাজ কীভাবে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ৯ ই মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন তা আদালতকে জানাতে হবে ।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেতুর শিলান্যাস করেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের তৎকালীন মন্ত্রী তথা এলাকার বাসিন্দা শান্তিরাম মাহাতো। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ থেকে ১৪৮ মিটার সেতুর জন্য বরাদ্দ করা হয় ৯ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। একবছর দ্রুত সেতুর কাজ হলেও,২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে যায় সেতু তৈরির কাজ। তারপর সেতুর কাজ শেষ করার দাবিতে এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে গঠন করা হয় ‘সেতু নির্মাণ সংগ্রাম কমিটি।’সেই কমিটির অন্যতম সদস্য মধুসূদন মাহাত জানান, ” সেতুর কাজ শেষ করার দাবিতে বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই কাজ আর শুরু হয়নি।”
কলকাতা হাইকোর্টে মামলাকারি অম্বরীশ মাহাত বলেন, “আদালত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান সচিবকে যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে আমরা আশাবাদী প্রশাসন সেতুর কাজ সমাপ্ত করার বিষয়ে, নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবে। এলাকার মানুষ দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবে।”

Post Comment