insta logo
Loading ...
×

শিল্পায়ন, পর্যটন, গ্রানাইট হাব— ত্রিমুখী উন্নয়নে পুরুলিয়া, বাজেটে ‘জঙ্গলসুন্দরী ‘ পুরুলিয়া পেলো ২৭ হাজার কোটি টাকা লগ্নি

শিল্পায়ন, পর্যটন, গ্রানাইট হাব— ত্রিমুখী উন্নয়নে পুরুলিয়া, বাজেটে ‘জঙ্গলসুন্দরী ‘ পুরুলিয়া পেলো ২৭ হাজার কোটি টাকা লগ্নি

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে শিল্প মানচিত্রে ফের নতুন করে উঠে আসছে জঙ্গলমহল পুরুলিয়া। রাজ্য বাজেটে রঘুনাথপুরের ‘জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী’কে ঘিরে ২৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব ঘোষণার পর নতুন আশার আলো দেখছেন জেলার মানুষ। তিন হাজার একরেরও বেশি জমিতে আধুনিক শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কর্মনগরীকে কেন্দ্র করে শিল্প, খনিজ ও পর্যটন, তিন ক্ষেত্রেই জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

রাজ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়াকে গ্রানাইট হাব হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবে একাধিক গ্রানাইট ও ব্ল্যাকস্টোন ব্লক ইতিমধ্যেই নিলামের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি রেয়ার আর্থ খনিজ, কপার ও অ্যাপাটাইট—এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আকরিক ব্লকও বাছাই করা হয়েছে। খনিজ সম্পদ নির্ভর এই শিল্প সম্ভাবনাই আগামী দিনে পুরুলিয়ার অর্থনীতির চেহারা বদলে দেবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

শিল্পায়নের পাশাপাশি পর্যটনকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর—জঙ্গলমহলের এই চার জেলা শহরকে আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা রয়েছে বাজেটে।

রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চলের ইতিহাসে একাধিক ওঠানামা রয়েছে। বাম আমলে শিল্পতালুক গড়ে উঠেছিল। জমি পাওয়া সত্ত্বেও একাধিক বড় সংস্থা কারখানা গড়তে ব্যর্থ হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই জমি ফিরিয়ে নিয়ে নতুন করে শিল্পায়নের পথ তৈরি করে সরকার। ২০১৬ সালে রঘুনাথপুরকে ‘জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী’ হিসেবে ঘোষণার পর শ্যাম স্টিল প্রায় ৬০০ একর জমিতে কারখানা গড়ে তুলে বর্তমানে উৎপাদন চালাচ্ছে। শাকম্ভরী পেয়েছে ৫৪৭ একর জমি, রশ্মি গ্রুপকে দেওয়া হয়েছে সর্বাধিক ৯৩৮ একর। নক্ষিত আয়রন অ্যান্ড স্টিলও এই কর্মনগরীতে বিনিয়োগকারী সংস্থার তালিকায় রয়েছে। মূল শিল্পের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে একাধিক অনুসারি শিল্প, বিশেষ করে সিমেন্ট কারখানা।

এতদিন পরিকাঠামো উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা না থাকায় বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল সরকারকে। তবে এবারের বাজেটেই স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইস্পাত শিল্প স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যেই তিন হাজার একরের বেশি জমি বরাদ্দ হয়েছে এবং প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। বেশ কয়েকটি নতুন সিমেন্ট কারখানা উৎপাদন শুরু করেছে, আরও কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে।

শিল্প ঘোষণার প্রভাব পড়ছে জেলার বিভিন্ন ব্লকেও। বলরামপুরের বেলডিতে অ্যাপাটাইট খনি, মিরমিতে কোয়ার্টজ ও ফেলডসপার প্রকল্প, হুড়ার বড় পানজানিয়া ও রঘুনাথপুরের পশ্চিম বেরো এলাকায় গ্রানাইট প্রকল্প, কাশিপুরের পালসারাতে ব্ল্যাকস্টোন প্রকল্প, ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে এইসব একাধিক খনিজ প্রকল্পে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রশ্মি গ্রুপ তাদের ২.৮ মিলিয়ন টন ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট ও ৪০০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে ৫৬৫৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। নক্ষিত আয়রন অ্যান্ড স্টিলের বিনিয়োগ ১৪৪০ কোটি টাকা। শুধু রশ্মি গ্রুপের প্রকল্পেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

এক সময় শিল্পের জন্য নেওয়া প্রায় ৫৫০০ একর জমির বড় অংশ পড়ে থাকলেও বর্তমানে প্রায় ৩২০০ একর জমি ব্যবহৃত হচ্ছে। সেই অনাবাদি জমিকেই কাজে লাগিয়ে রঘুনাথপুরকে নতুন শিল্প শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় রাজ্য। শিল্প ও খনিজ নির্ভর এই উন্নয়নের ফলে কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলবে রুখাশুখা পুরুলিয়ায়, এমনটাই আশা জেলার মানুষের।

Post Comment