নিজস্ব প্রতিনিধি, কোটশিলা:
মানবিক উদ্যোগ, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং পুলিশের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের ফলে দু’মাস পর বিহারের বৌদ্ধগয়া থেকে পরিবারের কাছে ফিরলেন পুরুলিয়ার কোটশিলা থানার আড়কালি গ্রামের গৃহবধূ আরুণী রজক। বছর ছত্রিশের গৃহবধূকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবার। পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজ্যের আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ই এই উদ্ধার অভিযানের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে প্রযুক্তি ও আন্তঃরাজ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহারই এই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কোটশিলা থানার আইসি আব্দুর রব খান নিখোঁজ যুবতীর স্বামীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হোমে ছবি ও বিবরণ পাঠিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত বিহারের বৌদ্ধগয়ার ‘শান্তি কুটির’ নামের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এক আবাসিকের সঙ্গে নিখোঁজ মহিলার ছবি মিলে যায়। ভাষাগত সমস্যার কারণে সেখানে তার নাম ‘অরুহি রোজী’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও ছবির ভিত্তিতে সন্দেহ গাঢ় হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনিই আরুণী রজক।
বুধবার ভিলেজ পুলিশের সহায়তায় পরিবারের সদস্যদের পাঠানো হয় বিহারে। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পর বৃহস্পতিবার তাকে নিয়ে কোটশিলা থানায় ফিরে আসেন স্বামী সুশেন রজক। পুলিশের দ্রুত উদ্যোগে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারায় খুশি পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর। সেদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আরুণী রজক। দিনমজুর স্বামী সুশেন তিন নাবালক সন্তানকে সামলে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালালেও স্ত্রীর কোনো হদিশ পাননি। থানায় অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধানে নামে। আর তার দুমাস পরই সাফল্য।










Post Comment