দেবীলাল মাহাত, পুরুলিয়া:
“আয় আর একটি বার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়/
মোরা সুখের দুখের কথা ক’ব প্রাণ জুড়াবে তাই ।”
এই ভাবেই রবিবার প্রাক্তনীদের নিয়ে পুনর্মিলন উৎসবে একত্রিত হয়ে আবেগঘন নানা মুহূর্তের সাক্ষী থাকলো সিধো কানহো বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ । রবিবার সংস্কৃত বিভাগের উদ্যোগে দ্বিতীয় পুনর্মিলন উৎসবটি হয় সেমিনার কক্ষে। দিনভর চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অতীত ও বর্তমান দিনের নানা সুখ দুঃখের কথা সর্বোপরি খাওয়া দাওয়া। শুধু প্রাক্তনীরা নন, সাথেসাথে পুনর্মিলন উৎসবে মাতলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান অধ্যাপক অধ্যাপিকা সহ ছাত্র ছাত্রীরা। একদিনের উৎসব হলেও নবীন ও প্রবীণের আন্তরিক মেলবন্ধনে ভিন্ন মাত্রায় উচ্ছাসের আবহ তৈরি হয়।
২০১০ সাল থেকে কলা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান সহ ১৫টি বিভাগকে নিয়ে পথ চলা শুরু হয় সিধো কানহো বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তার মধ্যে অন্যতম ছিল সংস্কৃত বিভাগ। প্রথমে নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে না ওঠায়, বোঙাবাড়ি সংলগ্ন জেবিটি ক্যাম্পাসে চলতো পঠনপাঠন। বর্তমানে রাজ্যের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় এটি। গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ঝাঁ চকচকে ক্যাম্পাস। বহু কৃতি পড়ুয়া ছড়িয়ে রয়েছে দেশ বিদেশের নানা প্রান্তে। তারা উজ্জ্বল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃত বিভাগের নাম।
পুনর্মিলন উৎসবে যোগ দিতে বাঁকুড়া থেকে এসেছিলেন প্রথম ব্যাচের এক প্রাক্তনী তথা হাইস্কুলের শিক্ষক দীপেন্দু ধুঁয়া। তিনি জানান, “হারানো অতীতকে ফিরে পেতেই পুনর্মিলন উৎসবে যোগ দিয়েছিলাম । এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে উঠেছে। তখন এই ক্যাম্পাস ছিল না। আমরা এক সময় বোঙাবাড়িতে মাটিতে বসে ক্লাস করেছি। সে আলাদা এক অনুভূতি। সময় করে সেই জায়গা আজকেও ঘুরে এসেছি।”
আর এক প্রাক্তনী ধনঞ্জয় গোস্বামী স্মৃতি চারণায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন ড. তপতী মুখ্যোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন সংস্কৃত বিভাগের। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি আমাদের ক্লাস নিতেন। কত যে ভালোলাগা এখানে এম.এ করে পেয়েছি। পুনর্মিলনে এসে সব চোখের সামনে ভেসে উঠল।”
বর্তমানে সংস্কৃত বিভাগে এম.এ পাঠরত বৈশাখী মন্ডল জানান, “পুনর্মিলনে এতো দাদা দিদিদের কাছে পাবো, ভাবতে পারিনি। অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে পেরে গর্বিত। ” এদিন পুনর্মিলনে উপস্থিত ছিলেন সিধো কানহো বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক ড.সুবল চন্দ্র দে , সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী, ড. প্রতাপ চন্দ্র রায়, ড. মধুসূদন দাস প্রমুখ।











Post Comment