নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়া ভায়া হুড়া নতুন রেলপথের অনুমোদনের কথা জানালো ভারতীয় রেল। জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও, বাস্তবে এই প্রকল্প কতটা দ্রুত আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে চিঠি দিয়ে এই অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন। তবে অনুমোদনের ঘোষণার পরও প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দ, জমি অধিগ্রহণের সময়সূচি, রুটের চূড়ান্ত দৈর্ঘ্য, কোনও বিষয়েই স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের কাছেও এই প্রকল্প সংক্রান্ত কোনও লিখিত নির্দেশ বা বিস্তারিত নথি পৌঁছায়নি। ফলে প্রশাসনিক স্তরে প্রকল্পের বাস্তব রূপায়ণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত এই রুটে রেলের নিজস্ব জমি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে নতুন রেললাইন তৈরি করতে গেলে বড় অংশের জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। সেই দায়িত্ব রাজ্য সরকারের ওপর বর্তাবে এবং তারপর সেই জমি রেলকে হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু কত একর জমি লাগবে বা কোন কোন মৌজার ওপর দিয়ে রেলপথ যাবে, এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
বর্তমানে পুরুলিয়া থেকে আদ্রা হয়ে বাঁকুড়া যেতে প্রায় ৯২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। নতুন রেললাইন হলে দূরত্ব কিছুটা কমবে ঠিকই, তবে পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যাত্রীসংখ্যা, পণ্য পরিবহণ এবং অর্থনৈতিক লাভের নিরিখে এই প্রকল্প কতটা কার্যকর হবে, তা বিশ্লেষণ না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।
এই অনুমোদনকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই প্রকল্প নতুন নয়। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “২০০৯-১০ আর্থিক বছরে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন। তারপর দীর্ঘদিন তা পড়ে ছিল। ভোটের আগে হঠাৎ অনুমোদন দিয়ে মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে”।
অন্যদিকে, পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “এটি বহু দিনের দাবি ছিল। আমরা নিয়মিতভাবে রেলমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলাম। সেই দাবিকে সম্মান জানিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই রেলপথ হলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, খুব শিগগিরই পুরুলিয়া–ঝাড়গ্রাম ভায়া বান্দোয়ান রেলপথেরও অনুমোদন মিলতে পারে, যার সমীক্ষার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও লোকসভা নির্বাচনের আগে পুরুলিয়া–ঝাড়গ্রাম রেলপথের সমীক্ষা শুরুর ঘোষণা করা হয়েছিল। বাস্তবে সেই প্রকল্প এখনও অধরা। ফলে নতুন করে ঘোষিত বাঁকুড়া–পুরুলিয়া রেললাইন নিয়েও জঙ্গলমহলের মানুষের মনে প্রশ্ন—এটি কি বাস্তবে উন্নয়নের রূপরেখা, না কি নির্বাচনের আগে ঘোষণামাত্র?
এদিকে সমাজমাধ্যমে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানিয়েছেন৷ রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আনাড়া স্টেশনে টাটানগর–বক্সার এক্সপ্রেসের স্টপেজ , ঝালদা স্টেশনে রাঁচি–গোড্ডা এক্সপ্রেসের স্টপেজ, এবং পুরুলিয়া স্টেশনে ভুবনেশ্বর–নিউ দিল্লি তেজস এক্সপ্রেসের স্টপেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।











Post Comment