নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার :
চোখের সামনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার! সাইকেলের মায়া ছেড়ে জঙ্গলের মাঝে দৌড় লাগালেন বৃদ্ধ। ঘটনায় মানবাজার ২ নম্বর ব্লকে রবিবার সকালে ছড়াল চাঞ্চল্য। খবর পেতেই জামতোড়িয়া বিটের গোলাপাড়া গ্রামে পৌঁছয় পুলিশ ও বন দফতর। জঙ্গলে তল্লাশি শুরু হয়। ভিড় জমান গ্রামবাসীরাও। তবে শুকনো মাটিতে কোনও পায়ের ছাপ না মেলায়, ওই বন্যপ্রাণীর পরিচয় জানতে ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দফতর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে সাইকেলে ধানের বস্তা নিয়ে গোলাপাড়া গ্রাম পেরিয়ে সগেডি গ্রামের বছর ৬৫-র বদনচন্দ্র মান্ডি বুড়িবাঁধের দিকে যাচ্ছিলেন। বদনবাবুর দাবি, জঙ্গলঘেরা উঁচু রাস্তায় সাইকেল থেকে নেমে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তখনই প্রায় ৫০ ফুট দূরে রাস্তার পাশে গলায় লম্বা কেশরযুক্ত একটি বাঘ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তাঁর কথায়, “দু’বার হাততালি দিতেই সে জঙ্গলের দিকে ঢুকে যায়। ভয়ে আমি সোজা গ্রামে ছুটে গিয়ে সবাইকে জানাই।”
বন দফতরের তরফে ওই বৃদ্ধকে নেকড়ে, হায়না, চিতাবাঘ ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি দেখানো হলে তিনি রয়্যাল বেঙ্গল বলেই শনাক্ত করেন বলে দাবি। যদিও ঘটনাস্থল ও আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়েও কোনও স্পষ্ট চিহ্ন মেলেনি। ফলে বাঘ না চিতাবাঘ—তা জানতে আপাতত ট্র্যাপ ক্যামেরার উপরেই ভরসা রাখছে দফতর।
স্থানীয়দের অনুমান, গোলাপাড়া জঙ্গলটি দক্ষিণ বাঁকুড়ার বারো মাইল এলাকার সঙ্গে যুক্ত। তাই বন্যপ্রাণীটি বাঁকুড়ার দিক থেকে এসে আবার সেদিকেই চলে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগেও বাঘিনী জিনাত ও তার পুরুষ সঙ্গী কিলা পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও মানবাজার ২ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেছিল।
বসন্তের দোরগোড়ায় মাটি পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ায় পায়ের ছাপ মিলছে না। জঙ্গলে ঝরে পড়ছে পাতা। এই পরিস্থিতিতে বনকর্মীরা কয়েকটি জলাশয় চিহ্নিত করেছেন। সোমবার সকাল থেকে সেগুলিতেও পায়ের নমুনা খোঁজার জন্য টহল চলবে।
কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাত বলেন, “খবর পেয়ে আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আমিও মানবাজার ২ রেঞ্জে এসেছি। আপাতত সেরকম কিছু পাওয়া যায়নি। নজরদারি চলছে, ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি এলাকার মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, কোনও সন্দেহজনক তথ্য থাকলে বন দফতরকে জানাতে।








Post Comment