insta logo
Loading ...
×

যুবরাজের সভায় লক্ষ্য লক্ষ মানুষের জমায়েত, চ্যালেঞ্জ নিয়েছে তৃণমূল

যুবরাজের সভায় লক্ষ্য লক্ষ মানুষের জমায়েত, চ্যালেঞ্জ নিয়েছে তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি, হুড়া:

টুসু পরবের আবহে রংবাহারি সাজে রণসংকল্প সভা। বুধবার হুড়ার লধুড়কার চন্ডেশ্বর ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাকে ঘিরে পুরুলিয়ায় তৎপরতা তুঙ্গে। সভাস্থলের সামনে রাখা হচ্ছে টুসুর প্রধান উপকরণ বিরাট বিরাট চৌডল। পাশাপাশি ছৌ ও পাতা নাচের শিল্পীরা উপস্থিত থেকে তুলে ধরবেন পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্য।

জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, এমন সাজে সভাস্থল আগে কখনও দেখেনি পুরুলিয়া। থাকছে তিনটি মঞ্চ, বিশাল র‍্যাম্প। ময়দানের চারপাশে বড় বড় রঙিন হোর্ডিং। তাতে লেখা, ‘আবার জিতবে বাংলা’। কে জিতবে, কে হারবে, সেই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের হাতে থাকলেও, অভিষেকের সভায় রেকর্ড ভিড় জমাতে প্রস্তুত জেলা তৃণমূল, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন জেলা সভাপতি রাজীব লোচন সরেন। তাঁর কথায়, “সমস্ত জেলা নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করছে। লক্ষ মানুষের জমায়েতের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা পূরণ হবেই।”

পুরুলিয়া শহর থেকে জঙ্গলমহলের বান্দোয়ান, শিল্পাঞ্চল রঘুনাথপুর থেকে মুখোশ-বিখ্যাত বাঘমুন্ডি— সর্বত্রই অভিষেকের সভার প্রচারে তৎপর তৃণমূল। গত নির্বাচনে জেলায় চমক দেওয়া বিজেপির বিরুদ্ধে এ বার অভিষেক কতটা আক্রমণাত্মক হন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা।

বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও সংহত করতে আগেই তিন কো-অর্ডিনেটরের মধ্যে জেলার ন’টি বিধানসভার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া, পাড়া ও রঘুনাথপুরের দায়িত্বে জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঘমুন্ডি, বলরামপুর ও জয়পুরের দায়িত্বে বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো। বান্দোয়ান, মানবাজার ও কাশিপুরের দায়িত্বে রাজ্য তৃণমূলের সম্পাদক হংসেশ্বর মাহাতো। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জেলার ন’টি বিধানসভার মধ্যে শাসকদলের দখলে এসেছিল মাত্র তিনটি। বাকি ছ’টিতে পরাজয়ের তেতো স্বাদ। তার মধ্যে বলরামপুর, রঘুনাথপুর ও পাড়া— এই তিন বিধানসভা কার্যত হাতের মুঠো থেকে ফসকে গিয়েছিল শাসকদলের। সামান্য ব্যবধানে, শেষ মুহূর্তে। রণসংকল্প সভার পর এই তিন কো-অর্ডিনেটরের কাছ থেকে বিধানসভা-ভিত্তিক রিপোর্ট নিতে পারেন অভিষেক। এমনটাই ইঙ্গিত জেলা তৃণমূলের অন্দরে।

বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতোর বক্তব্য, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা মানেই আলাদা উচ্ছ্বাস। মানভূমের আবেগ টুসু পরব সদ্য পেরিয়েছে, তার রেশ এখনও আছে। তাই চৌডল রাখা হচ্ছে সভাস্থলে। হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তাতে একমাত্র ভরসা তৃণমূল। আর সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”

রণসংকল্প সভায় থাকতে পারেন এসআইআর শুনানির জেরে আতঙ্কিত হয়ে আত্মঘাতী হওয়া দুই আদিবাসীর পরিবারের সদস্যরা। থাকতে পারেন সেই বৃদ্ধের পরিবারও, যিনি ওই শুনানির চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। উপস্থিত থাকতে পারেন সেই ১৬ জন ভোটারও, যাঁদের কমিশন ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করেছিল। এই আবহে জঙ্গলমহলের পুরুলিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন, তার দিকেই তাকিয়ে শুধু শাসকদল নয়, বিরোধীরাও। জেলার সাধারণ মানুষও।

Post Comment