insta logo
Loading ...
×

শৌচালয়ের জল বাজারে, নরক দর্শন বলরামপুরে

শৌচালয়ের জল বাজারে, নরক দর্শন বলরামপুরে

নিজস্ব প্রতিনিধি,‌ বলরামপুর:

নিত্যদিনের সব্জি কেনার জন্য যেখানে মানুষের ভরসা থাকার কথা, সেই বাজারেই এখন পা ফেলতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। কাদা, নোংরা জল আর অগোছালো পরিবেশ—এই ছবিই ধরা পড়ছে বলরামপুরের ডেলি মার্কেটে। বাজারে গিয়ে দেখা গেল, শৌচালয় থেকে বেরোনো জল সরাসরি বাজারের মাটিতে মিশে যাচ্ছে। তার মধ্যেই বসে কাঁচা সব্জি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন একাধিক বিক্রেতা।

স্থান সংকটের কারণে অনেক সব্জি বিক্রেতাই মাটিতে বসে ব্যবসা করছেন। ফলে একদিকে যেমন তাদের কাজের পরিবেশ অমানবিক হয়ে উঠছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের মধ্যেও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বাজারই এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সব্জি কেনার প্রধান জায়গা হলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অনেকেই এখানে আসতে চাইছেন না।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বাজারের মধ্যেই থাকা একটি খোলা বাজার কাঠামো কার্যত ব্যবহারই হচ্ছে না। ফলে যে পরিকাঠামো জনসাধারণের সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছিল, তা পড়ে থাকছে অব্যবহৃত অবস্থায়। স্থানীয়দের মতে, যদি ওই খোলা বাজারে পরিকল্পিতভাবে বিক্রেতাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে একদিকে যেমন সব্জি বিক্রি হবে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে, তেমনই বাজারের সামগ্রিক ছবিও বদলাতে পারে।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন বিক্রেতার ব্যক্তিগত দখলের কারণে সেই খোলা বাজার সাধারণ ব্যবহারের বাইরে রয়ে গেছে। সেখানে বাজারজাত করার সরঞ্জাম রেখে জায়গাটি কার্যত বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে বহু বিক্রেতা বাধ্য হচ্ছেন খোলা, নোংরা মাটিতে বসে ব্যবসা চালাতে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে কেন তা ব্যবহার করা হচ্ছে না? কেন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে এতদিন ধরে এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থা চলতে দেওয়া হচ্ছে?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে রাস্তা সংলগ্ন বাজারকে সরিয়ে ভেতরের দিকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যানজট কমানো ও বাজার ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে। সেই সময় জেলা পরিষদের জমিতে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি খোলা বাজার নির্মাণ করা হয়, যাতে বিক্রেতা ও ক্রেতা—উভয়েরই সুবিধা হয়।

কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও সেই খোলা বাজার আজও সাধারণ ব্যবহারের আওতায় আসেনি। সরকারি অর্থে তৈরি পরিকাঠামো এভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় স্থানীয় মানুষের মনে ক্ষোভ জমছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে বাজার ব্যবস্থাকে যে স্বাস্থ্যসম্মত ও জনবান্ধব করে তোলা।

Post Comment