সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
রাত পোহালেই মানভূমের প্রাণের উৎসব টুসু। দাম আকাশছোঁয়া হলেও গাঁটের খড়ি খরচ করেই চৌডল কিনে উৎসবে মাততে চলেছেন পুরুলিয়ার গ্রামবাংলার মানুষ। মকরসংক্রান্তির সকালে তাই পুরুলিয়া শহর কার্যত জনশূন্য, সবাই গ্রামমুখী, নদীমুখী। এমন অবস্থা যে শহরে এক কাপ চা পেতেও রীতিমতো কষ্ট করতে হচ্ছে।
পুজোর আগে কলকাতার গড়িয়াহাট, হাতিবাগান বা নিউমার্কেটের ভিড় সবার চেনা। চৈত্র সেলের কথাও জানা। কিন্তু পুরুলিয়ার মকর সেল? সেই ভিড়ের কথা খুব কম মানুষই জানে। মকরসংক্রান্তিকে সামনে রেখে পুরুলিয়া শহরের কাপড়গলি, চাইবাসা রোড, চকবাজার—সব জায়গায় তিল ধারণের জায়গা নেই। বড় বড় দোকান থেকে ফুটপাত, সবখানেই মকর সেলের পসরা। কারণ মকর স্নানের পর নতুন জামা পরা যে পুরনো রেওয়াজ।
নতুন জামার সঙ্গে চাই টুসু। আর সেই টুসুর হাটেই এবার চোখে পড়ছে অন্য ছবি। দাম বেড়েছে চৌডলের, বিক্রি মোটামুটি হলেও মুখে হাসি নেই অনেক ক্রেতার। দাম বৃদ্ধির কষ্ট, না কেনার যন্ত্রণা—সবটাই উঠে আসছে টুসু গানে।
বামুনডিহা গোপাল যোগী বলেন, ” বড়ো চৌডলের বিক্রি ভালো হচ্ছে।”
আড়শার সেনাবনা, জয়পুরের বডটাঁড়, কেন্দার তালতল কিংবা পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের বেলকুঁড়ি, সব হাটের ছবিই প্রায় এক। মকর পরবে পিঠে, চৌডল আর নতুন জামার আনন্দে মেতেছে মানুষ। তবে আনন্দের আড়ালে উদ্বেগও রয়েছে।
মঙ্গলা মাহাত নামের এক ক্রেতা বলেন,টুসু বা চৌডল পুরুলিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসব। মকরসংক্রান্তির দিনে টুসু গান গেয়ে নদীতে বিসর্জনের প্রথা পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই চলে আসছে।
দীনেশ কুমার নামের এক বিক্রেতা বলেন, “আগের মতো বিক্রি নেই। এখনকার ছেলে-মেয়েরা মোবাইল আর আধুনিকতার দিকে ঝুঁকছে। এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার ভয় আছে।”
তবুও ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদে আজও হাতে গোনা কয়েকটি চৌডল বানিয়ে হাটে আসছেন শিল্পীরা। তাঁদের দাবি—প্রশাসন ও সংস্কৃতি দপ্তর এগিয়ে এলে শুধু টুসুই বাঁচবে না, বাঁচবে গ্রামীণ শিল্পী আর পুরুলিয়ার আত্মা।










Post Comment