insta logo
Loading ...
×

ভোটের আগেই তৃণমূলে জোর ধাক্কা, বহিষ্কার করা হলো পুরুলিয়ার নেতাকে

ভোটের আগেই তৃণমূলে জোর ধাক্কা, বহিষ্কার করা হলো পুরুলিয়ার নেতাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুরুলিয়া পুর রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কৃত হলেন পুরুলিয়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রবি শঙ্কর দাস। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই রবি শঙ্কর দাস দলের কোনও কর্মসূচিতে অংশ নিতেন না। সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেত্রে দলবিরোধী ভূমিকার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীব লোচন সরেন বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। ওয়ার্ড থেকে একাধিক অভিযোগ এসেছে। দীর্ঘদিন কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেননি। দলবিরোধী কার্যকলাপ মেনে নেওয়া যায় না।”

অন্যদিকে, বহিষ্কৃত কাউন্সিলার রবি শঙ্কর দাস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ” আমাকে অন্যায়ভাবে টার্গেট করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং পুরসভার দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলার ফলেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “রাঁচি রোডে ত্রিফলা আলো বসানোর নামে দুর্নীতি, বাসস্ট্যান্ড রাতের অন্ধকারে ভেঙে দেওয়া এবং ফলস বিল তোলার চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম। এমনকি ওই বিষয়গুলির প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। ” এদিকে পুরুলিয়া পৌরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও তিনি অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি কোন দলবিরোধী কাজ করেছি, তার কোনও লিখিত প্রমাণ আমাকে দেওয়া হয়নি। দুর্নীতির প্রতিবাদ করাতেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূলে বহিষ্কার বলে কিছু নেই। এই দলের কোনও নীতি বা আদর্শ নেই। যে প্রশ্ন তোলে, তাকেই বাদ দেওয়া হয়।”

একদিকে দলীয় শৃঙ্খলার যুক্তি, অন্যদিকে দুর্নীতির প্রতিবাদের পাল্টা দাবি—সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে পুরুলিয়া পুরসভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Post Comment