নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে কর্তব্যপথে যখন বীররসের আবহ, তখন সেই মঞ্চেই বাংলার এক প্রায় বিস্মৃত লোকশিল্প নতুন করে প্রাণ পেতে চলেছে। দিল্লির প্যারেডে এবার নজর কাড়তে চলেছে পুরুলিয়ার নাটুয়া। সারা দেশের প্রায় ত্রিশটি লোকনৃত্যদলের দেড় হাজার শিল্পীর ভিড়ে জায়গা করে নিয়েছে জঙ্গলমহলের এই বিরল নাচ।
বলরামপুরের পাঁড়দ্দা গ্রামের হরিজন নাটুয়া নাচ পার্টির ২৫ জন শিল্পী বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া স্টেশন থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এ বছর একমাত্র এই দলটিকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নিতে।
এর আগেও কর্তব্যপথে বাংলার নাটুয়ার ঝলক দেখা গিয়েছে। এ বছর ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারের আমন্ত্রণে আবারও দিল্লিতে পা রাখছে তাঁদের দল। আগুন ও জোয়াল নিয়ে শিবদুর্গার মিলিত নৃত্য রূপ নাটুয়ার সেই চিরচেনা ছন্দই ধরা পড়বে কর্তব্যপথে।
১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে টানা মহড়া। প্রথমে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে, পরে সরাসরি কর্তব্যপথেই চলবে প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঁচি–আসানসোল প্যাসেঞ্জারে পুরুলিয়া ছাড়েন শিল্পীরা। গভীর রাতে আসানসোল থেকে নেতাজি এক্সপ্রেসে উঠে দিল্লির পথে যাত্রা।
বলরামপুরের এই নাটুয়া দল বিদেশের মঞ্চেও পরিচিত নাম। গত অক্টোবরে জাপানের ওসাকায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর বার্তা নিয়ে নজর কাড়েন তাঁরা। তার আগে লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, সৌদি আরব, ফ্রান্স—একাধিক দেশে বাংলার এই লোকনৃত্য তুলে ধরেছেন জগন্নাথ কালিন্দি।
“বিদেশে গিয়ে নাচ দেখানো অবশ্যই আনন্দের,” বলছেন জগন্নাথ। “কিন্তু দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রজাতন্ত্র দিবসে নাটুয়া পরিবেশন, একেবারেই আলাদা অনুভূতি। সেদিন সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
এই সুযোগে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরছে নাটুয়া শিল্পীদের জীবনে। যাতায়াত থেকে থাকা-খাওয়ার সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রক। কঠোর পরিশ্রমসাধ্য এই লোকশিল্প আজ প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। পুরুলিয়া ছাড়া আর কোথাও আর দেখা যায় না নাটুয়া। দিল্লির কর্তব্যপথে সেই বিলুপ্তপ্রায় শিল্পই আবার তুলে ধরবে বাংলার মুখ।











Post Comment