নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
মেশিন খারাপ, আর তাতেই উপেক্ষিত পুরুলিয়ার শীত। বাস্তবে চরম শৈত্যপ্রবাহ চললেও আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনে তার ছাপ নেই, এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে জেলায়। বুধবার আলিপুরের হিসেবে শ্রীনিকেতন (সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি), সিউড়ি (৮ ডিগ্রি) ও বর্ধমান (৮.৮ ডিগ্রি) শৈত্যপ্রবাহের আওতায় থাকলেও তালিকায় নেই পুরুলিয়া। কারণ, আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্টে পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেখানো হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কিন্তু জেলার বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে একেবারে উল্টো কথা। পুরুলিয়া শহরের সার্কিট হাউসের পিছনে রাখা আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। সেই কথা জানিয়ে জেলা থেকে রিপোর্ট পাঠানো হলেও এখনও পর্যন্ত মেশিন সারাতে কেউ আসেনি বলে অভিযোগ প্রশাসনিক সূত্রের। ফলে সরকারি বুলেটিনে পুরুলিয়ার শীতের প্রকৃত ছবি উঠে আসছে না।
অন্যদিকে, হাতোয়াড়ায় অবস্থিত কৃষি দপ্তরের যন্ত্রে ধরা পড়ছে একেবারে ভিন্ন চিত্র। কৃষি দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি পুরুলিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়নি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৪.৪ ডিগ্রিতে। যা স্পষ্ট ভাবেই শৈত্যপ্রবাহের মানদণ্ডের মধ্যে পড়ে।
ভোররাত থেকে হিমেল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডায় কার্যত জমে গিয়েছে জেলা। মাঠঘাট, গ্রামাঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটাতে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষকে। স্থানীয়দের কথায়, “যে ঠান্ডা পড়ছে, তা ১০ ডিগ্রি হতেই পারে না।” অথচ কাগজে-কলমে সেই শীতের কোনও স্বীকৃতি নেই।
আবহাওয়াবিদদের মতে, পুরুলিয়ার মতো ঝাড়খণ্ড-সংলগ্ন জেলায় শীতের প্রকোপ স্বাভাবিক ভাবেই বেশি হয়। সেখানে যদি যন্ত্র বিকল থাকে, তা হলে শীতের সঠিক মূল্যায়নই সম্ভব নয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মেশিন খারাপ থাকায় কি পুরুলিয়ার শীত গুরুত্ব হারাচ্ছে আলিপুরের কাছে? বাস্তব আর বুলেটিনের এই ফারাক নিয়েই এখন জেলায় তীব্র অসন্তোষ।


Post Comment