insta logo
Loading ...
×

স্কুলে বসেই পাপড়ি চাট বেচে আড়শায় চমকে দিলো পড়ুয়ারা

স্কুলে বসেই পাপড়ি চাট বেচে আড়শায় চমকে দিলো পড়ুয়ারা

সুইটি চন্দ্র, আড়শা:

রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে ‘স্টুডেন্ট উইক’-এর অঙ্গ হিসেবে স্কুলে ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন। এই ফেস্টিভ্যাল শুধু খাওয়া-দাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পড়ুয়াদের মধ্যে পরিকল্পনা, দলগত কাজ, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিজে কিছু করার মানসিকতা গড়ে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য।

স্থান পুরুলিয়া জেলার আড়শার নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট স্কুল। তারিখ ৬ জানুয়ারি। স্কুল চত্বরজুড়ে বসেছিল মোট ২২টি স্টল। কোথাও পেয়ারা মাখা, কোথাও ইডলি, আবার কোথাও গাজরের হালুয়া ও গুলাব জামুন। ভেজ পকোড়া, মোমো, পাস্তা থেকে শুরু করে নানা মুখরোচক খাবারে জমজমাট হয়ে ওঠে গোটা ক্যাম্পাস।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে পাপড়ি চাটের স্টল। মাত্র ৫৫ মিনিটে ৭৮০ টাকার খাবার বিক্রি করে কার্যত তাক লাগিয়ে দেয় ওই স্টল। পরিবেশন ও স্বাদের মেলবন্ধনে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় স্থান পেয়ারা মাখা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে ইডলি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়। মাথায় ক্যাপ, হাতে গ্লাভস, একেবারে বাণিজ্যিক ফুড স্টলের মতোই সাজানো ছিল প্রতিটি স্টল। স্টল সাজানো, পরিবেশন, স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা এবং খাবারের মান, এই চারটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই বিজয়ী নির্বাচন করা হয় বলে জানান স্কুলের সহকারী শিক্ষক কৌশিক বেরা ও সুকান্ত সিং সর্দার।

সপ্তম শ্রেণীর দুই ছাত্রী রুপু মন্ডল ও উমারানি মাহাতো বলেন,
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র ৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে গাজরের হালুয়া ও গুলাব জামুনের মতো মিষ্টি। পড়ুয়ারা জানায়, মায়ের কাছ থেকে শেখা রেসিপিই তারা কাজে লাগিয়েছে স্টলে।

বিক্রেতার পাশাপাশি ক্রেতার ভূমিকাতেও ছিল পড়ুয়ারা। জাশমিন খাতুন নামের এক ক্রেতা বলে, নিত্যদিনের পড়াশোনার বাইরে এমন অভিজ্ঞতা পেয়ে তারা ভীষণ খুশি।

এই ফুড ফেস্টিভ্যাল আরও একবার প্রমাণ করে দিল—শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, রান্নার স্বাদেও থাকতে পারে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।

Post Comment