নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
ইংরেজি নববর্ষ মানেই পর্যটকদের ঢল। কিন্তু সেই ভিড়কে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই পরীক্ষায় এবার কার্যত সসম্মানে উত্তীর্ণ পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বনবিভাগ। কনকনে ঠান্ডা, পাহাড়ঘেরা রোদ আর আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থার জেরে নববর্ষে পুরুলিয়ার পর্যটন পর্ব হয়ে উঠল স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ।
পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তথ্য বলছে পর্যটকদের মার্কশিটে ফার্স্ট
অযোধ্যা পাহাড়। পয়লা জানিয়ে সেখানে প্রায় ১৬ হাজার পর্যটক এসেছেন। দ্বিতীয় স্থানে হীরক রাজার দেশ জয়চন্ডী পাহাড়। এসেছেন ১২ হাজার পর্যটক। গড় পঞ্চকোটে ১৫০০জন ,বড়ন্তিতে ১০০০জন,
হাতিপাথরে ৭০০জন, মুরগুমা ও দুয়ারসিনিতে ৫০০ জন করে,
এবং দোলাডাঙায় প্রায় ১০০ জন পর্যটকের সমাগম ঘটে এদিন।
বছর পয়লায় নজর কেড়েছে রঘুনাথপুরের জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব। উৎসবের শেষ দিনে পাহাড় চূড়া থেকে পাদদেশ পর্যন্ত ৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরায় এলাকা মুড়ে ফেলা হয়। রঘুনাথপুর থানার পক্ষ থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয় সারাদিন। পাশাপাশি সাইবার সচেতনতা প্রচারও চালানো হয় পর্যটকদের মধ্যে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা এবং অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তোলায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পর্যটকেরা। অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় পার্কিং নিয়ে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়, সে বিষয়ে শুরু থেকেই কড়া নজরদারি চালায় পুলিশ প্রশাসন।
লহরিয়া ও কেষ্ট বাজার এলাকায় পিকনিক পার্টির চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়াও বিভিন্ন জলাধারের ধারে জমে ওঠে উৎসবের আমেজ। তবে এই আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেয় বনবিভাগ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই প্লাস্টিক ব্যবহার রুখতে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু হয়। অযোধ্যা পাহাড় ও পাহাড়তলি এলাকায় নাকা পয়েন্ট বসিয়ে প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে বলে জানান পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ।
তিনি বলেন, “বড়দিন থেকে নতুন বছরের পয়লা দিন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক ও পিকনিক পার্টির যাতায়াত হয়েছে। এই বিপুল ভিড় পুরুলিয়ার পর্যটনের সম্ভাবনাকে তুলে ধরলেও আমাদের প্রধান লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা।”
অযোধ্যা–গড় পঞ্চকোট সার্কিটের পাশাপাশি দক্ষিণ সার্কিটের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও এবার উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা জেলার পর্যটন মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।











Post Comment