নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
জঙ্গলমহলের মাটিতে প্রতিষ্ঠা দিবসকে শুধু রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখল না তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার গভীর রাত থেকেই পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কার্যালয়গুলিতে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি। কিন্তু এবারের উদযাপনে ছিল স্পষ্ট একটি বার্তা, সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার।
জেলার মূল কর্মসূচির সূচনা হয় দুলমি এলাকায় জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে। জেলা সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন দলের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন। তবে রাজনৈতিক ভাষণের চেয়েও তার উপস্থিতির মূল ফোকাস ছিল সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো। প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনেই বান্দোয়ানের গুরুড় অঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর কুঁচিয়া হাইস্কুল প্রাঙ্গণে শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন তিনি। শীতের কনকনে আবহাওয়ায় এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
দিনভর জেলার নানা প্রান্তে ঘুরে কর্মসূচিতে অংশ নেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। বৃহস্পতিবার সকালে মানবাজার–১ নম্বর ব্লকের জিতুজুড়ি এলাকায় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের সূচনা করেন তিনি। এরপর পুঞ্চা ব্লকের ন’পাড়া ভূতাম অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্থানীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। দিনের শেষভাগে ভালুবাসা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিল্পী, কর্মী ও এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। দলীয় সূত্রের মতে, মন্ত্রীর এই ধারাবাহিক উপস্থিতি কর্মসূচিগুলিকে কেবল রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ ও আস্থার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রতিষ্ঠা দিবসকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করানোর বার্তা উঠে আসে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো ও সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কর্মসূচিতেও। শান্তিরাম মাহাতো পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ম্যাক্সি-ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন। পাশাপাশি জয়পুরের ফরেস্ট অফিস মোড়ে নতুন আঞ্চলিক দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করে আগামী দিনে তৃণমূল স্তরে সংগঠন বিস্তারের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে—সংগঠন শক্তিশালী হবে তখনই, যখন কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় পুঞ্চা ব্লকের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে লাখরা ও চিরুডি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে প্রতিষ্ঠা দিবসকে সামাজিক দায়িত্ব পালনের এক মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কর্মসূচিতে স্পষ্ট ছিল—রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতোও পুরুলিয়া–১ নম্বর ব্লকের ভান্ডারপুয়াড়া সহ একাধিক এলাকায় কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করা, বুথস্তরে জনসংযোগ বাড়ানো এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার উপর জোর দেন।
সব মিলিয়ে, এবছর পুরুলিয়া জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস ছিল রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির এক সম্মিলিত যাত্রা। মানবিক পরিষেবা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং তৃণমূল স্তরে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্য দিয়ে জঙ্গলমহলের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার স্পষ্ট বার্তাই উঠে এসেছে প্রতিটি কর্মসূচিতে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই ধারাবাহিক সংযোগই আগামী দিনে সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে।











Post Comment