নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
গ্র্যাজুয়েট ও উচ্চশিক্ষিত যুবকদের ভবিষ্যৎ আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে শামিল হল বিজেপি। শুক্রবার পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে ‘গ্র্যাজুয়েট চপওয়ালা’ নামে একটি প্রতীকী ঠেলাগাড়িতে কড়াই বসিয়ে চপ ভাজলেন বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো। বিজেপির দাবি, রাজ্যে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে মুখ্যমন্ত্রী বারবার শিক্ষিত যুব সমাজকে চপ, ঘুগনি ও ঝালমুড়ি বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছেন, যা শিক্ষার মর্যাদাকে অপমান করার সামিল। শিল্পায়নের ডাক, শিল্প মেলা—সবই হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে বাংলায় বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি বলেই অভিযোগ বিজেপির।
রাজ্যে শিল্পায়ন ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাবকে সামনে রেখে এবার প্রতীকী প্রতিবাদের নতুন রূপ বেছে নিল বিজেপি। “এই বাংলার ভবিষ্যৎ—শিল্প হবে আলুর চপ”—এই কটাক্ষমূলক স্লোগানকে সামনে রেখে পুরুলিয়ায় শিক্ষিত বেকারত্বের প্রশ্নে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল গেরুয়া শিবির। বিজেপির এই কর্মসূচি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে যেখানে বিজেপি রাজ্যের শিল্পনীতি ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার দাবি করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস একে নিছক ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বলেন,
“রাজ্যে শিল্প নেই, চাকরি নেই। বছরের পর বছর পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষিত যুবকদের সামনে কোনও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। সরকার আত্মনির্ভরতার নামে চপ, ঘুগনি, ঝালমুড়ি বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছে। আমরা প্রতীকীভাবে দেখাতে চেয়েছি—এটা আত্মনির্ভরতা নয়, বরং সরকারি ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।” তার দাবি, রাজ্যে বড় শিল্পের অভাবের ফলে যুবসমাজ ক্রমেই হতাশার দিকে ঠেলে যাচ্ছে। শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে।

এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক শিবিরও। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সরেন বলেন, “এই ধরনের চপ-নাটক করে মানুষের মন জয় করা যাবে না। সাধারণ মানুষ সব জানেন। রাজ্য সরকার শিল্প, রাস্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের কাজ করেছে। বিজেপি মানুষের কোনও বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে না পেরে এই ধরনের প্রতীকী রাজনীতি করছে।”
তবে রাজনৈতিক তরজার মাঝেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাজ্যে শিক্ষিত যুবকদের জন্য পর্যাপ্ত স্থায়ী চাকরি ও বড় শিল্পের অভাব কি সত্যিই একটি বড় সমস্যা? প্রতীকী ‘চপ–প্রতিবাদ’ সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। পুরুলিয়ার রাজনীতিতে এই কর্মসূচি যে আগামী দিনে আরও বিতর্ক ও পাল্টা কর্মসূচির জন্ম দিতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।











Post Comment