insta logo
Loading ...
×

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু, বেআইনি বালির বিরুদ্ধে সরব হতেই হামলা!

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু, বেআইনি বালির বিরুদ্ধে সরব হতেই হামলা!

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন পুরুলিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। বেআইনি বালির কারবারে মদত না দেওয়ার মূল্য দিতে হল রক্ত দিয়ে। বুধবার দিনেদুপুরে নিজের কার্যালয়ের ভেতরেই লাঠির আঘাতে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হন পুরুলিয়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পুরুলিয়া শহর ক্যাম্পাসে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পুরুলিয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধবঘাটা এলাকায়, প্রাক্তন পুরপ্রধানের নিজস্ব কার্যালয়ে
ওই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শুভজিৎ কালিন্দি তার বাবা ও কাকার সঙ্গে কার্যালয়ে ঢুকে হঠাৎই পেছন থেকে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে প্রাক্তন পুরপ্রধানের মাথায়। আচমকা হামলায় রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনি। মাথায় হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনার সময় প্রাক্তন পুরপ্রধানের দুই দেহরক্ষীর মধ্যে একজন বাড়িতে গিয়েছিলেন। অন্যজন কার্যালয়ের ভেতরে থাকলেও আচমকা হামলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সময় লাগে। তবে দ্রুত অভিযুক্তকে পাকড়াও করেন দেহরক্ষী এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আহত অবস্থায় নবেন্দু মাহালিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান দেহরক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দা ও শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার বড়দিনে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। মাথায় সামান্য চোট থাকলেও সিটি স্ক্যানে গুরুতর কিছু নেই।

পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শুভজিৎ কালিন্দিকে গ্রেফতার করেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। ধৃতের বাড়ি পুরুলিয়া শহরের ধবঘাটা এলাকায়। বৃহস্পতিবার তাকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়।
এই হামলার নেপথ্যে বেআইনি বালির কারবার সংক্রান্ত আক্রোশই মূল কারণ বলে উঠে আসছে তদন্তে ও স্থানীয় সূত্রে। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে অভিযুক্ত শুভজিৎ কালিন্দির একটি বালিবোঝাই ট্রাক্টর পুলিশের হাতে আটক হয়। অভিযোগ, সেই ট্রাক্টর ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রাক্তন পুরপ্রধানের কাছে তদবির করেছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু নবেন্দু মাহালি তাতে রাজি হননি। বরং বেআইনি কাজের বিরোধিতা করেছিলেন।

প্রাক্তন পুরপ্রধানের স্ত্রী মালবিকা মাহালি বলেন, “ওই যুবক এবং তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা বেআইনি কাজের জন্য স্বামীর কাছে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু তিনি কোনওরকম বেআইনি কাজে প্রশ্রয় দেননি। উল্টে প্রতিবাদ করেছিলেন। এই ঘটনার আগেও আমাদের পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।” বাড়িতে ফিরে প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি বলেন,
“এটা একেবারে পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী হামলা। আমি হাত দিয়ে কোনওক্রমে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। লাঠির পুরো আঘাত লাগলে হয়তো আমি সেখানেই মারা যেতাম। যে ছেলেটি হামলা করেছে, সে আমারই এলাকার বাসিন্দা।”
দিনেদুপুরে শাসক দলের প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির উপর এই হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত পুরুলিয়া শহর। সাম্প্রতিক কালে শহরের বুকে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলে মত সাধারণ মানুষের। ঘটনার পর প্রাক্তন পুরপ্রধানের স্ত্রী-সহ একাধিক কাউন্সিলর ও শাসক দলের নেতা-কর্মীরা পুরুলিয়া সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান এবং ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন।
প্রাক্তন কাউন্সিলর বিভাসরঞ্জন দাস বলেন, “দু’জন দেহরক্ষী থাকার পরেও কীভাবে এই হামলা হল, তা বড় প্রশ্ন। “

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু হামলার ঘটনাই নয়, এর নেপথ্যে কোনও বেআইনি বালি চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের পরিবারের ভূমিকা এবং আগের হুমকির বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বেআইনি বালির কারবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই কি কাল হল প্রাক্তন পুরপ্রধানের—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরুলিয়া জুড়ে।

Post Comment