insta logo
Loading ...
×

বড়দিনে রঙিন জঙ্গলমহল, পুরুলিয়ায় যীশুপূজার বাজার টেক্কা দিচ্ছে দিওয়ালিকে

বড়দিনে রঙিন জঙ্গলমহল, পুরুলিয়ায় যীশুপূজার বাজার টেক্কা দিচ্ছে দিওয়ালিকে

সুইটি চন্দ্র , পুরুলিয়া :

বড়দিন মানেই রঙের উৎসব। সেই রঙে এ বছর আরও উজ্জ্বল জঙ্গলমহল পুরুলিয়া। যীশুপূজার প্রস্তুতিতে ঘর সাজাতে নানান সামগ্রীতে ভরে উঠেছে শহরের দোকানদর। কেক-পেস্ট্রির গণ্ডি ছাড়িয়ে ক্রিসমাস ট্রি, স্নো ট্রি, স্টার, বেল থেকে সান্তা ড্রেস—সব মিলিয়ে জমে উঠেছে বিকিকিনির বাজার।

কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যালের সঙ্গে এ বার পুরুলিয়াও যুক্ত হওয়ায় চলতি মাসের ১৮ তারিখ থেকেই গির্জা-সহ একাধিক সরকারি দপ্তর আলোকমালায় ঝলমল করছে। শহরের সিটি সেন্টার তো রয়েইছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পোস্ট অফিস মোড় লাগোয়া বিপণী, চকবাজার, এমনকি নডিহা এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিসমাসের রঙিন সম্ভার।

দোকানজুড়ে সাজানো ক্রিসমাস ট্রি—সাধারণের পাশাপাশি নজর কাড়ছে ‘স্নো ক্রিসমাস ট্রি’। ইউরোপের দেশগুলিতে গাছের পাতায় বরফ পড়লে যে দৃশ্য দেখা যায়, সেই ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ট্রিগুলিতে। দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকা থেকে। সঙ্গে রয়েছে ২০ থেকে ৩৫ টাকায় ঝকঝকে রিবন , ব্যানার , ৮ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে ছোট বেল । বড় সান্তার দাম দেড় হাজার টাকা, বড় স্টার দেড়শ টাকা, ছোট স্টার ১০ থেকে ৭৫ টাকা। সান্তা ক্যাপ মিলছে ২০-৩৫ টাকায়, মোজা ২০-৪০ টাকা, ব্যাগ ২৫ টাকা। শিশুদের জন্য সান্তা পোশাকের দাম ১৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

বিশেষ করে ৬-৭ বছর পর্যন্ত বালক-বালিকাদের সান্তা লুকে সাজাতে ভিড় উপচে পড়ছে বাজারে। পোস্ট অফিস মোড়ের এক বিপণীর মালিক নরেশ ফোগলা বলেন, “এ বার ক্রিসমাসের বাজার ভীষণই ভালো। প্রায় দিওয়ালির মতোই জমজমাট। সান্তা ড্রেস সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।”

নডিহা এলাকার এক স্টেশনারি দোকানের মালিক সুদীপ সেনের কথায়, “আমাদের দোকানে ১০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ক্রিসমাস ট্রি আছে। সঙ্গে সান্তা চশমাও মিলছে।”

শহরের বাসিন্দা সুতপা চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় আদরের ছোট ছেলেকে সান্তা লুকে সাজাতে কেনাকাটা করতে এসেছেন। বললেন, “এ বার পুরুলিয়ার ক্রিসমাস বাজার সত্যিই খুব রঙিন। ঘর আর ছেলেকে সাজানোর জিনিস কিনেছি। সম্ভার দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়।”

সব মিলিয়ে, বড়দিনের আগে পুরুলিয়ার বাজারে এখন শুধু কেনাকাটা নয়, উৎসবের আমেজে ভরপুর এক রঙিন ‘জিঙ্গলমহল’।

Post Comment