insta logo
Loading ...
×

বেপরোয়া লরির ধাক্কায় ঝালদায় তছনছ হয়ে গেল একাধিক দোকান, জখম ১, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

বেপরোয়া লরির ধাক্কায় ঝালদায় তছনছ হয়ে গেল একাধিক দোকান, জখম ১, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:

গত সোমবার পুরুলিয়ার
ঝালদায় গভীর রাতে এক ভয়াবহ লরি দুর্ঘটনায় রীতিমতো তছনছ হয়ে গেল রাস্তার ধারের একাধিক দোকান। রাত প্রায় ১০ টা নাগাদ পুরুলিয়ার দিক থেকে আসা একটি ভারী পণ্যবাহী লরি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মারে। এরপর বেপরোয়া গতিতে ছুটে এসে রাস্তার ধারে থাকা তিনটি দোকানে সজোরে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায় লরিটি। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
এই ঘটনায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন একাধিক দোকানদার। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শিবাপ্রসাদ চন্দ্র, দেবশরণ কর্মকার ও রাসবিহারী মাহাত জানান, লরির ধাক্কায় তাদের দোকান কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দোকানের ভেতরে থাকা মালপত্র, আসবাব—সবই ভেঙে চুরমার। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরেই চালক ও সহকারী চালক লরিটি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।

দুর্ঘটনার জেরে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝালদা থানা-র পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ঘটনায় আহত ঝালদার বাসিন্দা সন্দীপ মণ্ডলকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝালদা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র-এ ভর্তি করা হয়। তবে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। দুটি জেসিবির সাহায্যে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরিটি রাস্তা থেকে সরানো হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা। তাদের দাবি, অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি পলাতক চালকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল—যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি না কি চালকের গাফিলতি—তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার শিবাপ্রসাদ স্বর্ণকার বলেন,
“এক নিমেষে সব শেষ হয়ে গেল। লরিটা সোজা দোকানের ওপর ঢুকে পড়ল। চালক পালিয়ে গেল—আমরা ক্ষতিপূরণ আর কঠোর শাস্তি চাই।” স্থানীয় বাসিন্দা, দেবশরণ কর্মকার বলেন,
“রাতের বেলায় এমন দুর্ঘটনায় গোটা এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের আরও কড়া নজরদারি দরকার।”

Post Comment