insta logo
Loading ...
×

তিন কিমিতেই ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ফারাক! পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ঘিরে বিস্ময় তুঙ্গে

তিন কিমিতেই ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ফারাক! পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ঘিরে বিস্ময় তুঙ্গে

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

শীতের দাপটে কাঁপছে বাংলা। উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে দার্জিলিঙে—৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কালিম্পঙে পারদ নেমেছে ১১ ডিগ্রিতে। আলিপুরদুয়ারে ৯ ডিগ্রি, জলপাইগুড়িতে ১১.১ এবং কোচবিহারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দক্ষিণবঙ্গেও শীতের আমেজ স্পষ্ট। রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৩ ডিগ্রি কম। যদিও শনিবারের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। শনিবার শহরের পারদ নেমেছিল ১৫.৪ ডিগ্রিতে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১.২ ডিগ্রি কম।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিন উত্তর বা দক্ষিণবঙ্গ—কোথাও তাপমাত্রার বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কলকাতার আকাশ থাকবে পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত। তবে ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট বাড়তে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে নেমে আসতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর।

এই পরিস্থিতিতে পুরুলিয়ায় তাপমাত্রা নিয়ে সামনে এল চমকপ্রদ ফারাক। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি। অথচ হাতোয়াড়ায় কৃষি দপ্তরের আবহাওয়া মাপক যন্ত্রের হিসেব বলছে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪.৫ ডিগ্রি হলেও সর্বনিম্ন নেমেছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুর আবহাওয়া অফিস যে তথ্য দেয়, তা পুরুলিয়া সার্কিট হাউস এলাকায় থাকা তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে মাপা। সার্কিট হাউসের পিছনের ফাঁকা জায়গায় বসানো সেই যন্ত্র থেকেই সরকারি রিপোর্ট তৈরি হয়। অন্যদিকে কৃষি দপ্তরের যন্ত্রটি রয়েছে হাতোয়াড়ার আরও খোলা এলাকায়।মাত্র তিন কিলোমিটার ব্যবধানে এই প্রায় ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার পার্থক্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে।

খোলা মাঠ ও শহুরে পরিকাঠামোর তফাত, কংক্রিটের উপস্থিতি, হাওয়ার চলাচল—এই সব কারণেই একই জেলায়, সামান্য দূরত্বে তাপমাত্রায় এতটা তারতম্য হচ্ছে বলে মত আবহাওয়াবিদদের। তবে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতায় শীতের ‘রিয়েল ফিল’ যে কৃষি দপ্তরের হিসেবের কাছাকাছি, তা মানছেন অনেকেই।

Post Comment