নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
পুরুলিয়া ১ নং ব্লকের সোনাইজুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভূত আতঙ্ক। স্কুলের শৌচাগারেই নাকি কেউ তার লম্বা চুল টেনে ধরেছিল—এ কথা বলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। টানা ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট জ্ঞান ফেরেনি। এরপর সাত দিনের হাসপাতালে ভর্তি থাকে সে। সিটি স্ক্যান, ইইজি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, হিমোগ্লোবিন—সব পরীক্ষাই শেষ। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রোগের কোনও কারণই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল থেকে ফিরে স্কুলে পা রাখতেই শিক্ষিকার জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ‘‘চুল টানা ভূত’’এর গল্প। মুহূর্তে পুরো স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পড়ুয়াদের আতঙ্ক ভেঙে দিয়ে বিজ্ঞান-চেতনা ছড়াতে এগিয়ে আসে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। বৃহস্পতিবার সংগঠন থেকে ছ’জনের একটি দল স্কুলে পৌঁছে শুরু করেন ‘ভূত-বিরোধী প্রচার’। বেগুনকোদরের ট্রেন ভূত থেকে হুড়ার বাইক-ধরা ভূত—একের পর এক উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়, এসব কেবলই গুজব। ঘোষণা করা হয়, যে কেউ ভূতের ছবি তুলতে পারলে পুরস্কার হিসেবে পাওয়া যাবে ৫ লক্ষ টাকা।
মজার খেলায়, ছোট ছোট পরীক্ষায় ভূতের আতঙ্ক ভাঙার চেষ্টা চালান তাঁরা। কিন্তু আতঙ্ক কি সত্যিই কেটেছে? স্কুলের দাবি—এখন আর ভয় নেই। তবে বাস্তবে পড়ুয়াদের মনে এখনও রয়ে গেছে শৌচাগারের সেই রহস্য।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১২ নভেম্বর। শৌচাগারে গিয়েই অজ্ঞান হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। পরে সে জানিয়েছে, ‘‘পিছন থেকে কেউ আমার চুল টেনে ধরেছিল। তারপর আমি পড়ে যাই।’’ স্কুলের পক্ষ থেকেই তাকে ভর্তি করা হয় দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে। একের পর এক পরীক্ষা—তবু কোনও শারীরিক সমস্যা ধরা পড়েনি। এরপর স্কুলের এক শিক্ষিকা জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে ভূতের কাহিনি।
প্রধান শিক্ষক দেবজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ‘‘মাথা ঘোরার কারণ আমরা কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। তাই সব পরীক্ষা করিয়েছি। পরে দিদিমণির কাছে ভূতের গল্পটাই সামনে আসে। এখন অবশ্য আতঙ্ক নেই। বিজ্ঞান মঞ্চ এসে প্রচার করেছে।’’
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রীটি নাকি প্রতিদিন ঠাকুমার কাছে ভূতের গল্প শোনে। তার দিদিও কয়েকদিন আগে লাগদার স্কুল হোস্টেলে ভূতের ভয়ে বাড়ি ফিরে আসে। শিক্ষকদের অনুমান, এই সব মিলেই শিশুমনে তৈরি হয়েছে বাড়তি ভয়, আর তার ফলেই অজ্ঞান হওয়া।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা সম্পাদক নয়ন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ভূত বলে কিছুই নেই—এটাই বাচ্চাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছি। বাস্তবে বেগুনকোদর, অর্জুনজোড়া, কাশিপুর—কোথাও ভূতের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’’
তবু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সেই শৌচাগারে ‘চুল টানা ভূত’—এর ভয় কি সত্যিই কাটবে? নাকি ছায়ার মতোই পিছু নেবে সোনাইজুড়ির পড়ুয়াদের?










Post Comment