সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবিরে নিজস্ব এলাকার প্রকল্প চূড়ান্ত করার বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার পুঞ্চা ব্লকের কেন্দা গ্রাম পঞ্চায়েতের সৌরাং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী বুলু চিক বারাইক এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু। গ্রামবাসীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে প্রকল্প বাছাইয়ের কাজে সহায়তা করেন তাঁরা।
শিবির শেষে পুরুলিয়া সার্কিট হাউসে জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, জেলা পরিষদ সদস্য এবং ভার্চুয়ালি জেলার সমস্ত বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেন বুলু চিক বারাইক। সেই বৈঠকে জেলা পরিষদের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে সভাধিপতিকে বিশেষ মডেল ক্যাম্প আয়োজনের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার পরামর্শ দেন।
তবে জেলা প্রশাসনের কাজের প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
ওই বৈঠকে উঠে আসে গ্রামীণ এবং শহুরে এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের তেমন অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না। যা প্রকল্পের সঠিক প্রচারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর ফলে শিবিরে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও কমছে। শহরাঞ্চলের অনেক এলাকায় মানুষজন আগেভাগে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য। যা প্রকল্প অনুযায়ী বিধি বহির্ভূত। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী শিবিরে আলোচনা পর্বের মাধ্যমেই সমস্যা ও চাহিদা চূড়ান্ত হওয়া উচিত।
বুলু চিক বারাইক বলেন,
“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন এক মেগা প্রকল্প চালু করেছেন, যেখানে মানুষ নিজের সমস্যার সমাধান নিজেরাই সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে করতে পারছেন। সারা দেশে এরকম উদ্যোগের আর কোনও নজির নেই। প্রতিটি জেলায় গিয়ে আমরা নিশ্চিত করছি যাতে সরকারি সুবিধা সঠিকভাবে মানুষের হাতে পৌঁছায়।”
কয়েকদিন আগেও জেলার একাধিক শিবির পরিদর্শন করে প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেছিলেন মন্ত্রী। এবারও তিনি সরেজমিনে কাজের অগ্রগতি যাচাই করতে জেলায় পৌঁছেছেন। প্রশাসনিক স্তরে আলাদা পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হয়েছে প্রকল্পের মান বজায় রাখতে।
এদিন শহরের কস্তুরবা হিন্দি বালিকা বিদ্যালয়ে মন্ত্রীর আসার কথা থাকলেও সময়সূচির ব্যস্ততার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারেননি। ওই শিবিরে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে বিধবা বা বার্ধক্য ভাতার জন্য বহু আবেদন জমা পড়লেও সেগুলির সঠিক নিষ্পত্তি হয়নি। একইসঙ্গে ‘আমাদের পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পেও বহু আবেদন এখনও ঝুলে আছে। এই অভিযোগও এদিনের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।











Post Comment