নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
কুড়মি সম্প্রদায়কে আদিবাসী তালিকাভুক্ত করার দাবিতে ফের বড় আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার প্রায় ১০০টি জায়গায় একযোগে রেল রোকো কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে সংগঠন। এর ফলে তিন রাজ্যে পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে বহুবার এই দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছে কুড়মি সমাজ। রাস্তা অবরোধ, রেল রোকো থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী ধর্না—সব পথেই লড়াই চালিয়েছে তারা। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের কোনো পক্ষই এতদিন কুড়মি সম্প্রদায়কে আদিবাসী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি মানেনি। তাই নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগঠন।
আগস্ট মাস জুড়ে তিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলছে প্রস্তুতি বৈঠক। সম্প্রতি পুরুলিয়া শহরে এমনই এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাতো, সংগঠনের বিভিন্ন পদাধিকারী ও বহু সংখ্যক সদস্য। বৈঠকে আন্দোলনের কর্মসূচি সফল করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। কুড়মি সম্প্রদায়ের দাবি, ঐতিহাসিকভাবে ও সাংস্কৃতিকভাবে তারা আদিবাসী সমাজের অংশ। অথচ সংবিধানের তালিকায় তাদের নাম নেই। এর ফলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সংরক্ষণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কুড়মি জনগণ। তাই দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন জারি রেখেছে সমাজ।
রেল রোকো কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই তিন রাজ্যের প্রশাসনের মাথায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ১০০টিরও বেশি জায়গায় একযোগে রেল অবরোধ হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ দিয়ে কয়লা, লোহা সহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ হয়। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। অন্যদিকে ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। পুজোর মরশুমে এমন রেল রোকো মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংগঠনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার আর প্রতিশ্রুতিতে ভরসা নয়। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। রেল রোকোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথেও হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে আদিবাসী কুড়মি সমাজের।











Post Comment