নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার :
মাথার উপর তপ্ত রোদ। পুরুলিয়ার মানবাজার থানার
জিতুজুড়ি অঞ্চলের মানকোচা গ্রামের দুই বেয়াই ঈশ্বর সিং সর্দার ও থুলু সিং কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলেন নদীতে স্নান করবেন। বহুদিন পর তাদের দেখা। তাই সম্পর্কের উষ্ণতা ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্ত হয়ে ওঠে লঙ্কাগড়া নদীর ঘাটে একসঙ্গে স্নানের পরিকল্পনা।
মঙ্গলবার প্রথমদিকে সবই ছিল স্বাভাবিক। দুজনেই নেমেছিলেন কাঁসাই নদীর ঘাটে। নদীর শান্ত জলধারা বর্ষায় ফুলে ওঠা স্রোত, আর মনভরানো পরিবেশ—সবকিছুই ছিল নিখুঁত। কিন্তু আচমকাই ঘটল বিপর্যয়। ঈশ্বর সিং সর্দার নদীর কিছুটা গভীরে চলে যেতেই এক প্রবল স্রোতের ধাক্কায় পা হড়কে তলিয়ে যান। চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যে জলের নিচে হারিয়ে যান তিনি।
স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন থুলু সিং।
ঘটনার পরপরই শুরু হয় হাহাকার। স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবকেরা ঝাঁপিয়ে পড়েন নদীতে, শুরু হয় প্রাণপণ খোঁজ। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেও মেলে না সাড়া। ক্রমে রাত ঘনিয়ে আসে। মানকোচা গ্রামের ঈশ্বরবাবুর বাড়িতে নেমে আসে একরাশ অন্ধকার, উদ্বেগ আর আশঙ্কা।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। কাঁসাই নদীতে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর, সকাল ৯টা নাগাদ নদীর গর্ভ থেকে উদ্ধার হয় এক নিথর দেহ।
জানা যায় ওই দেহ ঈশ্বর সিং সর্দারেরই। মৃতের ছেলে সুখেন সিং সর্দার ভেঙে পড়েন কান্নায়। তিনি বলেন,
“বাবা জলপথ খুব ভালোবাসতেন। বহুবার নদীতে গেছেন। ভাবিনি এমন কিছু হবে। শেষ দেখা যে এভাবে হবে, তা কল্পনাও করিনি।” মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে। শোকস্তব্ধ মানকোচা গ্রাম। এক সময়ের প্রাণের বন্ধন আজ শুধুই স্মৃতি। গ্রামবাসীদের মনে রয়ে গেল দুই বেয়াইয়ের বন্ধুত্বের করুণ এক অধ্যায়।











Post Comment