insta logo
Loading ...
×

প্রাপ্তি প্রকল্পে ৮১৪ হারানো মোবাইল উদ্ধার, শীর্ষে পুরুলিয়া সদর, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করলেন পুলিশ সুপার

প্রাপ্তি প্রকল্পে ৮১৪ হারানো মোবাইল উদ্ধার, শীর্ষে পুরুলিয়া সদর, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করলেন পুলিশ সুপার

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফেরত পাওয়া শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, এর পিছনে থাকে দীর্ঘ তদন্ত, সাইবার ট্র্যাকিং এবং আন্তঃজেলা সমন্বয়ের কাজ, পুরুলিয়া জেলা পুলিশের “প্রাপ্তি” প্রকল্পে একসাথে ৮১৪টি হারানো মোবাইল প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় সামনে এল সেই চিত্র। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া বেলগুমা পুলিশ লাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে থানাভিত্তিক হিসাব প্রকাশ্যে আসতেই নজর কেড়েছে উদ্ধার সংখ্যার পরিসংখ্যান।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মোবাইলের সংখ্যায় সবার উপরে রয়েছে পুরুলিয়া সদর থানা, যেখানে সর্বাধিক ১৫৭টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে পুরুলিয়া মডেল থানা। সেই এলাকা থেকে ৬৬টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও পাড়া থানায় ৫০টি, বলরামপুর থানায় ৪০টি, ঝালদা থানায় ৩৯টি এবং বরাবাজার থানায় ৩৮টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে।

থানাভিত্তিক অন্যান্য পরিসংখ্যানে দেখা যায় — আদ্রা ২২টি, আড়শা ৩০টি, বাঘমুন্ডি ১৫টি, বান্দোয়ান ২৫টি, বোরো ২৮টি, হুড়া ২৭টি, জয়পুর ৩৫টি, কাশিপুর ৩০টি, কেন্দা ১২টি, কোটশিলা ৩৫টি, মানবাজার ২৪টি, নিতুড়িয়া ২৮টি, পুঞ্চা ২৩টি, রঘুনাথপুর ২০টি, সাঁওতালডি ২৭টি, সাঁতুড়ি ২৩টি এবং টামনা থানায় ২০টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৮১৪টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোবাইল হারানোর অভিযোগের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তির সাহায্যে ট্র্যাকিং ও তদন্ত চালানো হয়। বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে বহু মোবাইল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই উদ্ধার অভিযান প্রমাণ করে যে হারানো মোবাইল উদ্ধার করা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা অনেক সময় চোখে পড়ে না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি সাইবার প্রতারণা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দেন। তিনি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামের নতুন ধরনের প্রতারণার কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রতারকরা ফোন বা ভিডিও কলে নিজেদের ইডি, ইনকাম ট্যাক্স বা সিবিআই পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে”। তিনি জানান, “এই ধরনের ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়”।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “পুলিশের কাজ অনেক সময় সামনে চোখের সামনে না দেখা গেলেও তদন্ত ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। সব হারানো মোবাইল একসঙ্গে উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।”
এদিন শুধু পুলিশ সুপার নন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ডিএসপি-রাও মঞ্চ থেকে হারানো মোবাইল মালিকদের হাতে তুলে দেন। বহু মানুষ দীর্ঘদিন পর নিজেদের মোবাইল ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পাড়া থানার কালুহার গ্রামের সবিতা মাহাতো বলেন, হারানো মোবাইল ফেরত পাবেন ভাবেননি। অন্যদিকে পুরুলিয়া শহরের আমডিহার সৌম্যদীপ মাহাতো জানান, কয়েক মাস আগে হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে পুলিশের প্রতি তার আস্থা আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, জেলা পুলিশের “প্রাপ্তি” প্রকল্পের মাধ্যমে হারানো বা চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও এই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

Post Comment