নিজস্ব প্রতিনিধি , বলরামপুর :
ইচ্ছে থাকলেই সমস্ত প্রতিকূলতাকে হার মানানো সম্ভব। মনের জোরই সবচাইতে বড় জোর। তা যেন আরেকবার প্রমাণ করেছে পুরুলিয়ার বলরামপুরের মেয়ে অঞ্জলি সোরেন। ভাঙা পায়ে মাধ্যমিকে দুর্দান্ত রেজাল্ট করে দেখালো সে। বলরামপুর লালিমতি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী অঞ্জলি। তার মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর ৪০৪। ৫৭ শতাংশের বেশি।
চোখে রয়েছে তার শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন। তাই কোন কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার সামনে।

প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের ২১ ডিসেম্বর বলরামপুরের চকবাজার এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটি পা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তবুও থেমে থাকেনি সে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ে, স্টিলের রড লাগানো পা নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে অঞ্জলি সরেন। তাঁর কথায়, ” মাত্র ৪ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছি। বড় হয়েছি মামার বাড়িতে। যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছিল তাতে ভাবতে পারিনি মাধ্যমিক দিতে পারব। মামা-মামি, ব্লক প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সহ সাধারণ মানুষজন আমাকে যেভাবে সাহায্য করেছে তা আমি কোনদিন ভুলবো না। ওই সাহায্যের জন্যই আমি এই ফল পেয়েছি।”
তার নিজের বাড়ি সাইবুড্ডী ডুঙরিডি গ্রামে। তার বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। তিনি কাজের সূত্রে থাকেন চেন্নাইতে। অঞ্জলীর পাশে সবসময় থেকেছেন তার মামা-মামি। তাই শিক্ষিকা হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায় সে। অঞ্জলির এই সাফল্যে ভীষণ-ই খুশি তার পরিবারের সদস্যরা, খুশি আশেপাশের এলাকার মানুষজনও। আগামীদিনে অঞ্জলি যাতে আরও বড় হয় সেই কামনাই করেন বলরামপুর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সানি মুখোপাধ্যায়। সাহস ও সংকল্প থাকলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। তার বড় উদাহরণ হয়ে রইল অঞ্জলি।









Post Comment