নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:
জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রে ” শ্রুতিদিশা” আয়োজিত সারা বাংলা শ্রুতিনাটক উৎসবে একদিনে ১৩ টি শ্রুতি নাটক। সঙ্গে সমবেত আবৃত্তি। সম্প্রতি পুরুলিয়ার বিজ্ঞান কেন্দ্রে সারা বাংলা শ্রুতি নাটক উৎসবে কলকাতার ৬ টি, হাওড়ার ২ টি, শিলিগুড়ির ১ টি, পুরুলিয়ার ৪ টি শ্রুতি নাটকের দল অংশ নেয়। ভিন্ন স্বাদের ১৩ টি শ্রুতি নাটক শ্রোতাদের মন জয় করে । শ্রুতি দিশার কর্ণধার দিব্যেন্দু শেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ও শম্পা পাত্র চট্টরাজ বলেন, “পুরুলিয়ার মতো প্রান্তিক জেলায় বাচিক শিল্পের চর্চার প্রচার প্রসার ও উন্নয়ন এই উৎসবের মুখ্য উদ্দেশ্য । ” উৎসবে উদ্বোধক ছিলেন সিধু কানু বিরসা বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নচিকেতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালী, প্রখ্যাত অভিনেতা ড. বাসুদেব মুখার্জী, বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক সৈকত রক্ষিত, লোকগবেষক তথা ক্ষেত্র সমীক্ষক ড. দয়াময় রায়, জেলা বিজ্ঞান আধিকারিক ধ্রুব জ্যোতি চট্ট্যোপাধ্যায় প্রমুখ। সমগ্ৰ অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সঞ্চালনা করেন পারমিতা দুবে চ্যাটার্জী ।

এই শ্রুতি নাটক ছাড়াও সম্প্রতি
অন্যচোখের উদ্যোগে নাট্যোৎসব এবারও নজর কাড়ে। পুরুলিয়ার রবীন্দ্র ভবনে মনোজ মিত্র মঞ্চে ওই নাটকের অনুষ্ঠান হয়।
শ্রুতি নাটকের অনুষ্ঠানে যেগুলি নজর কাড়ে তার মধ্যে শ্রুতি নন্দনের ‘তুই আর মুই’ আলাদা ছাপ ফেলে। স্বরূপ দত্ত ও শম্পা পাত্র চট্টরাজ-র কন্ঠে এই নাটক
সম্প্রতি পুরস্কৃত হয়। বনানী মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘তুই আর মুই’। বৃদ্ধ বয়সের ভাই বোন একে অপরের অবলম্বন সহায় ও আশ্রয়। মাত্র তিন মাস বিবাহিত জীবনের পর বিধবা হয়ে যাওয়া বোন ফিরে আসে বাপের বাড়ি। একমাত্র দাদার প্রেমিকা ননদের সারা জীবনের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করার জন্য দাদাও আজীবন অবিবাহিত থেকে যায়। এখন দুজনেই বৃদ্ধ। তাদের ঝগড়া ভালোবাসার গল্প নিয়ে এই শ্রুতিনাটক শুনে বহু দর্শকেরই চোখে জল চলে আসে। এছাড়া কলকাতার লিপিকার ‘ট্রাফিক সিগনাল’, থিয়েটার প্র্যাকটিশনার্স-র ‘অপরাজিতা উল্লাস’ মন কেড়ে নেয়। অভিনেতা বাসুদেব মুখোপাধ্যায়ের
কন্ঠে এই নাটকের প্রশংসা করেন সকলেই। এছাড়া হাওড়ার পঞ্চকের ‘আমার ফোকলাই ভালো’ এই নাটকের মজা নেন দর্শকরা। কবি সুজয় দত্তের
আঞ্চলিক ভাষায় লেখা
গড়জয়পুরের অহিরা নাট্যদলের ‘ফেরা না ফেরা’ নাটক দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায় । করোনা কালে ভিন রাজ্যে কাজ করা শ্রমিক সন্তান পুরুলিয়া ফিরতে গিয়ে কী বিপদের মুখে পড়ল, বাবা ও স্ত্রীর টানাপোড়েনে সেই মর্মন্তুদ আখ্যান ফুটে উঠেছে।

শ্রোতারা বলছেন, পুরুলিয়ায় নাট্যচর্চার একটা আলাদা ধারা রয়েছে। একসময় সেই চর্চা যেন হারিয়ে গিয়েছিল। আবার তা ফিরে এসেছে।
অন্যচোখের তরফে অনুপ মুখোপাধ্যায় জানান, ” সারা বছর থিয়েটারকে ঘিরেই আমাদের স্বপ্ন দেখা। নাট্যোৎসব, স্কুল থিয়েটার, কর্মশালা, নাট্যপত্র প্রকাশ আলোচনা চক্র হয়ে থাকে। এবারও সেই চর্চাকে অবলম্বন করেছি।”
Post Comment