insta logo
Loading ...
×

শহরের এমএলএ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবার কর্মবিরতি পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে

শহরের এমএলএ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবার কর্মবিরতি পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

‘শহরের এমএলএ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চিকিৎসার সমস্ত বিভাগ পুরুলিয়া শহরের ক্যাম্পাস থেকে হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবিতে পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে। চিকিৎসার সমস্ত বিভাগ পুরুলিয়া শহরের ক্যাম্পাস থেকে হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিকাঠামোর উন্নয়নের দাবিতেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত। এর জেরে সোমবার বিকেল থেকেই ব্যাহত হয়ে পড়েছে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা।

বর্তমানে পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি আলাদা ক্যাম্পাস—একটি শহরের মধ্যে, অন্যটি হাতোয়াড়ায়। পড়াশোনা ও চিকিৎসা পরিষেবার জন্য ইন্টার্ন ও চিকিৎসকদের প্রতিদিনই যাতায়াত করতে হয় দুই ক্যাম্পাসে। বিশেষত রাতে যাতায়াতে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমে উঠছিল ডাক্তারি পড়ুয়াদের মধ্যে। তাই সমস্ত বিভাগ হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে একত্রিত করার দাবিতে সোমবার সকাল থেকে আন্দোলনে নামেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

প্রথমে কলেজের অধ্যক্ষের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। পরে অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হলেও মেলেনি কোনও সমাধান। এরপরই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ইন্টার্ন তুহিন চক্রবর্তী বলেন, “আরজি কর ঘটনার আগেই আমাদের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটে। পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছিল। কিন্তু ঘটনা এড়ানো যেত। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধন করা হাতোয়াড়া ক্যাম্পাস এখন ঘুঘুর বাসা। কোন কাজ হয় না এখানে। আর শহরের ক্যাম্পাসে নোংরা পরিপূর্ণ। অনেকবার বলেছি সমস্ত বিভাগ এই হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে আনতে হবে। শহরের এমএলএ কী করছেন তা আর বললাম না। মোদ্দা কথায় আশ্বাসে ভুলছি না। হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে সব বিভাগ এলে তবেই উঠবে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি। “

আরেক ইন্টার্ন দেবাঙ্গনা কোলে সরকার বলেন, “প্রতিদিন দুই ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে গিয়ে পড়াশোনা ও পরিষেবা—দুটোই ব্যাহত হচ্ছে। রাতে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তার অভাব সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমরা চাই, সব বিভাগ হাতোয়াড়াতেই একত্রিত হোক।”

অন্যদিকে অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস বলেন, “ইন্টার্নদের দাবিগুলি যথার্থ। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সমস্ত বিভাগ একসঙ্গে হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে নিয়ে আসাও সমস্যার। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। আপাতত কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

Post Comment