নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর ও আদ্রা :
কখনও পঁচিশ, কখনও তিরিশ ফুট—বিশালাকৃতি বিশ্বকর্মা মূর্তি নিয়ে এক সময় রেলশহর আদ্রার পুজো মানেই ছিল অন্যরকম ঝলক। সেপ্টেম্বর এলেই কারখানার উঠোন থেকে রেল বিভাগের কলোনি, অফিস মাঠ—সবখানেই শুরু হত সাজসজ্জার তোড়জোড়। ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে অ্যাকাউন্টস, প্রতিটি বিভাগ নিজেদের চাঁদার টাকায় মেতে উঠত আরাধনায়। মণ্ডপে বাজনার তালে কর্মীদের মিলনমেলা তৈরি করত উৎসবের আবহ। বসত মেলা।
কিন্তু সেই ছবি এখন অতীত। দীর্ঘদিন নিয়োগ নেই রেলে। এক সময় আদ্রা ডিভিশনে প্রায় চৌদ্দ হাজার কর্মী থাকলেও, আজ সংখ্যা অনেকটাই কম। কর্মী সঙ্কটে চাঁদা তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে এখনও পুজো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আয়োজন আর আগের মতো ঝলমলে নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসুদেব বাউরীর কথায়, “আগে প্রতিটি বিভাগেই কর্মী ভরপুর ছিল। তখন চাঁদা ওঠার অঙ্কটাও বড় হত। এখন কর্মী কম, তাই উৎসবের রঙও ফিকে।”
শুধু রেলশহর নয়, একই ছবি শিল্পাঞ্চল রঘুনাথপুরেও। ডিভিসি ও একের পর এক ইস্পাত কারখানাকে ঘিরে বছর পাঁচ-ছয় আগে এখানকার বিশ্বকর্মা পুজোতে জমেছিল বাড়তি আড়ম্বর। আদ্রাকেও যেন টেক্কা দিতে শুরু করেছিল শিল্পশহর। বিশাল মণ্ডপ, আলোর ঝলকানি, শ্রমিক আর ইঞ্জিনিয়ারদের ভিড়ে রঘুনাথপুরে তৈরি হয়েছিল নতুন উৎসব সংস্কৃতি।
কিন্তু শিল্পায়নের স্বপ্নের গতি যত দ্রুত বেড়েছিল, কর্মসংস্থান ততটা তৈরি হয়নি। একসময়কার একের পর এক বিনিয়োগ আজ ভাটা খেয়েছে। তার ছায়া পড়েছে উৎসবেও। পুজো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই আড়ম্বর নেই। এক কারখানা-কর্মীর আক্ষেপ, “আগে সবাই মিলে পুজো করতাম, মেলায় ভিড় হত উপচে। এখন সব যেন ফিকে হয়ে গেছে।”
রেলশহরের প্রবীণরা মনে করিয়ে দেন, এক সময় বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই ঝলমল করত প্রতিটি মণ্ডপ। আলোকসজ্জা, রঙিন তোরণ, কর্মীদের ঢল—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর থাকত গোটা শহর। রঘুনাথপুরেও একই ছবি দেখা যেত। এখন সেই ঝলক শুধু স্মৃতিতে, ইতিহাসের পাতায়।
ফাইল চিত্র











Post Comment