insta logo
Loading ...
×

ভাইফোঁটায় কোন মিষ্টি ট্রেন্ডিং? কোস্তার লাড়ু থেকে গুড়ের লাড্ডু, নিখুঁত নিখুঁতি থেকে হাল ফ্যাশনের মিষ্টি, ভাইয়ের মুখে দিতে হিমসিম বোনেরা

ভাইফোঁটায় কোন মিষ্টি ট্রেন্ডিং? কোস্তার লাড়ু থেকে গুড়ের লাড্ডু, নিখুঁত নিখুঁতি থেকে হাল ফ্যাশনের মিষ্টি, ভাইয়ের মুখে দিতে হিমসিম বোনেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

ভাই তুই ভালো থাক, সব বোন এই চায়
মিষ্টিতে আরও মিঠে, পেটপুরে খায়দায়।
গুড়পিঠে ট্র‍্যাডিশান আরশাও বলে কেউ,
গুড়ের লাড্ডু, বোঁদে মাখা সাথে সেউ।
কাশিপুর রাজাদের কোস্তার লাড্ডু,
যোধপুরি জিলিপিতে পুরুলার মাড্ডু
জমিয়ে দিয়েছে এই জাফরান আতরে
ট্রেন্ডিং মিষ্টিরা স্বাদে আর বাহারে
নিখুঁত নিখুঁতি কই, শোনো ওই হাহাকার
প্লেটভরে মিষ্টিতে, মন ভরে সবাকার

সে আপনি যতই স্বাস্থ্য সচেতন হোন না কেন, জেন জেড যতই মিষ্টি বলতে ভ্রূ কোঁচকাক, হুঁ হুঁ বাওয়া, ভাইফোঁটা বলে কথা! ভ্রূ পল্লবে ডাক দিলে দেখা হবে সন্দেশ গলিতে। পুরুলিয়া শহরের এই বিখ্যাত গলির নাম সন্দেশ গলি। দু পাশে মিষ্টির দোকান। আর সাথে গরমাগরম সেউ নিমকি ভাজা চলছে। সে এক জিভে জল গন্ধ! এখানে ভাইফোঁটায় ট্র‍্যাডিশনাল মিষ্টির জম্পেশ চাহিদা। রসগোল্লা তো আছেই। কালাকাঁদ এবং কম মিষ্টির সন্দেশের চাহিদাও বেশ ভালো। তবে বহু ক্রেতার মুখেই হতাশার ছাপ সম্পূর্ণ অন্য কারণে। পুরুলিয়ার ব্র‍্যান্ড মিষ্টি এককালে ছিলো নিখুঁতি। নিখুঁত খেতে বলেই এই নাম। পিওর ছানা ফেটিয়ে একেবারে সরু লেচি বানিয়ে টুকরো করে নেওয়া হতো আঙুলের মাপে। আর তারপর ঢিমে আঁচে ভাজা হতো দেশি ঘি-তে। শেষ ওভারে তিরিশ রান তুলতে রিঙ্কু সিং হয়ে মাঠে নামতো পাতলা চিনির রস। তাতে ডুবে যেত নিখুঁতিরা। আর তারপরই তৈরি হতো এমন এক মিষ্টি যার একটুকরো মুখে দিলেই মনে হতো “গার ফিরদউস বার রুহ এ জমিঁ অস্তো / হামিন অস্তো, হামিন অস্তো, হামিন অস্তো।” কিন্তু এখন সেই নিখুঁত নিখুঁতি নিরুদ্দেশ।

হতাশা বাদ দিয়ে কিছু গরমা গরম মিষ্টির বাজার দেখে নেওয়া যাক। সন্দেশ গলির গজা, জিলিপি, লবঙ্গলতিকা আর চন্দ্রকলা এখনও ছিয়াশির মারাদোনা।

এবার ট্র‍্যাডিশনের পাশে ট্রেন্ডিংকে দেখা যাক। শহরের পিএন ঘোষ স্ট্রিটের পাশে পোস্ট অফিস মোড় এখন মিষ্টি কেনার আরেক ডেস্টিনেশন। পুরুলিয়া শহরের পিএন ঘোষ স্ট্রিটের মোহন সুইটস জমিয়ে দিয়েছে ভাইফোঁটার বাজার।
সেখানে ৩২ টাকায় বিকোচ্ছে কিটক্যাট সন্দেশ, ৩২ টাকায় কফি সন্দেশ, ৪০ টাকায় গোলাপ ফুলের রাবড়ি আর ৪২ টাকায় গুড় ভরা সন্দেশ।

প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বরুণ রাজগড়িয়া জানালেন, “এবার ভাইফোঁটার মিষ্টির বাজার গতবারের তুলনায় অনেক ভালো। আমরা চার রকম নতুন মিষ্টি এনেছি। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে কিটক্যাট ও গুড় ভরা সন্দেশ। বুধবার আমরা ২০০টি কিটক্যাট সন্দেশ বানিয়েছিলাম—দুপুরের মধ্যেই শেষ!”

জানা গিয়েছে, আসল কিটক্যাট চকলেট দিয়েই তৈরি ওই সন্দেশ। আর গোলাপ ফুলের রাবড়ি বানাতে ব্যবহার হচ্ছে গোলাপ ফুলের রস। দাম পুরুলিয়ার প্রেক্ষিতে কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতারা বলছেন, “এ রকম মিষ্টি আগে কখনও খাইনি!”

ভাইফোঁটার আগে তাই শহরের মিষ্টির দোকানগুলিতে এখন উৎসবের মেজাজ। গরমাগরম জিলিপি গজার পাশাপাশি নলেন গুড়ের গন্ধে, চকলেট আর গোলাপের সুবাসে মিষ্টি-প্রেমী পুরুলিয়া মেতেছে এক অন্যরকম স্বাদ-উৎসবে।

কী জিভের ব্যায়াম করতে রেডি তো?

Post Comment