নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার :
ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু দলছুট বুনো দাঁতাল। রবিবার গোটা দিন বনদপ্তরকে নাজেহাল করে ছেড়েছিল এই দাঁতাল। অবশেষে সন্ধ্যের পর মানবাজার এক নম্বর ব্লকের জিতুজুড়ির হাতিপাথর সংলগ্ন শালদহির জঙ্গল এলাকায় ঘুমপাড়ানি গুলিতে শান্ত হয় সে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বাঁকুড়ার ছাতনায় ঢুকে পড়ে এই দলছুট বুনো দাঁতাল। তারপর ওই হাতিটি মধ্য রাতে পুরুলিয়ার পুঞ্চায় চলে আসে। সেই বুনো হাতির হামলায় রবিবার সাতসকালে মৃত্যু হয় বাহাদুর মাহাত নামে ৭৫ -র এক বদ্ধের। ওই হাতিটি মানবাজার এক রেঞ্জ-র জিতুজুড়ি গ্রামে হাতিপাথর সংলগ্ন শালদহির জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। এলাকার মানুষদের সুরক্ষার্থে সমগ্র জঙ্গলকে ঘিরে দেওয়া হয়।

পুরুলিয়া বনবিভাগ, কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগ, কংসাবতী উত্তর বনবিভাগ, বাঁকুড়া বনবিভাগের বনাধিকারিক সহ কর্মীরা পৌঁছান সেখানে। বিকালের পর একাধিক কুইক রেসপন্স টিম ও যৌথ বন পরিচালন সমিতির সদস্যদেরও আনা হয় এই এলাকায়। তিনটি ট্রাইঙ্কুলাইজার টিম জঙ্গলে প্রবেশ করে। প্রথম ঘুম পাড়ানি গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়। অবশেষে সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় ঘুম পাড়ানি গুলিতে কাবু হয় ওই বুনো দাঁতাল।

অবশেষে হাতিটিকে বেঁধে লরিতে চাপিয়ে বাংলা-ওড়িশা সীমান্তবর্তী এলাকার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম চক্রের মুখ্য বনপাল বিদ্যুৎ সরকার বলেন , “ভোরবেলায় যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই মর্মান্তিক। এটা কখনোই কাম্য নয়। মৃত বৃদ্ধের পরিবারের সাথে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে বনবিভাগের। পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি।”

এই হাতির বিচরণে রীতিমতো ঘুম উড়ে গিয়েছিল পুঞ্চা- মানবাজার এলাকার বাসিন্দাদের। তবে তৎপর ছিল বনবিভাগ। বারে বারে এলাকার মানুষদের সতর্ক করা হচ্ছিল। অবশেষে ঘুম পাড়ানি গুলিতে শান্ত হয় সে।











Post Comment